হালিশহরে মমতার ওপর হামলার তীব্র জল্পনা! দরজা বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে যা বললেন শুভেন্দু, শুনলে চমকে যাবেন!

রবিবার হালিশহরে মৃত এক তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করতেই চরম নাটকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এলাকায় পৌঁছতেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন, যার জেরে গোটা হালিশহর এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর ঘটা এই বিক্ষোভ বা হামলার ঘটনাকে সমর্থন করেনি বিজেপি নেতৃত্ব। তবে মৃতের পরিবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা মমতাকে আমন্ত্রণ জানায়নি, এমনকি তাঁর জন্য বাড়ির দরজাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে।

মমতাকে তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পানিহাটির সেই নির্যাতিতা অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার একটি স্মরণসভায় যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হালিশহর সফর এবং তাঁকে ঘিরে চলা জনরোষ নিয়ে কড়া আক্রমণ শানান তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, “বাড়ির লোক বলছে না আমরা ডাকিনি। আমরা উনি যুক্ত হন, চাই না। আপনাকে ওই বাড়ির লোক দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে, আপনি বলছেন না আমি দরজা ভেঙে ঢুকব।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেড ক্যাটাগরি (Z Category) নিরাপত্তা পাওয়া সত্ত্বেও কেন পুলিশকে আগাম কিছু না জানিয়ে গোপনেই সেখানে গেলেন? এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “জেড ক্যাটাগরি নিরাপত্তা পান। আমরা প্রত্যাহার করিনি। ডিজি সিকিউরিটি এখানে জিজ্ঞেস করি, বলেন পুলিশকে কোনো ইনটিমেশন দেননি। যেটুকু ছবি দেখেছি তাতে কোনো বিজেপি নেতা দেখতে পাইনি। বাড়ির লোক বলছে পুলিশের তদন্তে আস্থা আছে, উনি এক আইনজীবী নিয়ে নাটক করতে গিয়েছেন। পুলিশকে না জানিয়ে গিয়েছেন। পরিবারের লোক আপনার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ করে দিয়েছে।”

অভয়ার স্মরণসভা থেকে মমতাকে নিশেন
রবিবার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার ঠিক দু’বছর পূর্ণ হয়েছে। পানিহাটির মেয়ে সেই অভয়ার স্মরণসভায় যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শাসকশিবিরের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর দাবি, দলের বিরুদ্ধে জমে থাকা বিপুল জনরোষ এড়াতে ও লুকোতেই এই সমস্ত সফর করা হচ্ছে। তোপ দেগে তিনি বলেন, “এত চুরি করেছেন চোর তো… বিপুল জনরোষ। আজ তো অভয়ার বাড়িতে যেতে পারতেন। হাত জোড় করে বলতেন ক্ষমা করে দিন। রত্নাদি ক্ষমা করে দিতেন।” সবমিলিয়ে হালিশহরের বিক্ষোভ এবং অভয়ার স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে রবিবার দিনভর উত্তাল ছিল বাংলার রাজনৈতিক ময়দান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *