সংসদে চরম উত্তেজনার আবহ! অমিত শাহের মুখোমুখি হতেই কি আজ বড় পদক্ষেপ নেবে বিরোধীরা?

আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশনের একেবারে শেষ সপ্তাহ। অধিবেশনের শুরু থেকেই ছাত্রদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, পেলেট গান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদে জবাবদিহির দাবিতে সরব রয়েছে বিরোধীরা। আজও সেই একই দাবিতে অনড় থাকার ঘোষণা করেছে বিরোধী শিবির।
অন্যদিকে, হাতে মাত্র চারদিন বাকি থাকায় আজ লোকসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিল পেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে সপ্তাহের প্রথম দিনেই সংসদ চত্বরে সরকার বনাম বিরোধী পক্ষের তীব্র চাপানউতোর ও হট্টগোলের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লোকসভা ও রাজ্যসভায় কোন কোন বিল পেশ?
আজ লোকসভায় কার্যসূচি অনুযায়ী মোট চারটি বিলের মধ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তরফে। এর মধ্যে রয়েছে:
কেরলের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত বিল
জাতীয় সমবায় উন্নয়ন নিগম (NCDC) সংশোধনী বিল
পাশাপাশি, আজ রাজ্যসভাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিল পেশ করার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের।
FCRA বিল নিয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতি এবং শাহের উপস্থিতি
রাজনৈতিক মহলের একাংশের গুঞ্জন ছিল, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বিতর্কিত বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা FCRA সংশোধনী বিলটি সংসদে পেশ করতে পারেন অমিত শাহ। কিন্তু ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস বিলের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সম্ভাব্য সহযোগী হতে পারে যে দলগুলি— সেই ডিএমকে (DMK) এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি (NCP-SP) ইতিমধ্যেই এফসিআরএ বিলের ঘোর বিরোধিতা করেছে। শরিক ও মিত্রদের এই অনীহার কারণে সরকার আপাতত এই বিল পেশের ক্ষেত্রে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে।
আজ বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকের পরই এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত ভাবনা ও কৌশল স্পষ্ট হবে। তবে বিরোধীদের সমস্ত চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আজ অমিত শাহ নিজেই সংসদে উপস্থিত হয়ে এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সুপ্রিয়া সুলের বৈঠক
এদিকে আজকের এই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই একটি বড় খবর সামনে এসেছে। আজ সোমবার এনসিপি (এসপি)-র এক প্রতিনিধিদল দলের কার্যকরী সভাপতি সুপ্রিয়া সুলে-র নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন। যদিও সুপ্রিয়া সুলের দাবি, মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানীয় ও জনকল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্যই এই সাক্ষাৎ, তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে এফসিআরএ বিল নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং দরকষাকষির একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক অঙ্কও থাকতে পারে। সবমিলিয়ে বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহের প্রথম দিনেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন দারুণ গরম হয়ে উঠেছে।