“চার বছর বয়সে মাথা ও মাছ দিয়ে বাক্য রচনা করত!” অভয়ার ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস মৃত্যুর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে মেয়ের স্মরণে আয়োজিত এক সভায় আবেগঘন ও কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা রত্না দেবনাথ। মেয়ের ছোটবেলার নানা মিষ্টি মুহূর্ত থেকে শুরু করে তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তের ভয় ও আতঙ্কের কথা বলতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। একইসঙ্গে এদিনের সভা থেকে তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন যে, তাঁর মেয়েকে কেবল ধর্ষণ করা হয়নি, বরং এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

ছোটবেলার স্মৃতি ও ডাক্তার হওয়ার জেদ

স্মরণসভায় মেয়ের শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মা রত্না দেবনাথ জানান, ছোট্ট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও জেদি ছিল তাঁর মেয়ে। কথা ফোটার পর থেকেই সে একটানা জেদ ধরে বলেছিল, “মা, আমি ডাক্তার হব।” মাত্র চার বছর বয়সে রাস্তার ধারে আদর্শলিপি বই কিনে দেওয়ার জন্য তাঁর বায়না করা কিংবা ‘মাথা’ ও ‘মাছ’ দিয়ে নিখুঁত বাক্য রচনা করার মতো বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ার স্মৃতি আজও মা রত্না দেবনাথের মনে সতেজ রয়েছে।

“আর রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না…”

মেয়ের সাজানো বাগান আর ফোটা ফুলের দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে মা জানান, মেয়ে যে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না, সেই শূন্যতা প্রতিদিন তাঁকে কুড়ে কুড়ে খায়। মেয়ের জন্য বিনিদ্র রাত কাটানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজও রাত কাটে, বাকি জীবনটাও এভাবেই কাটবে।” তবে সবচেয়ে বড় যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সমাজের নানা ভয় ও পরিস্থিতির চাপে আজ তিনি নিজের আদরের মেয়ের নামটি পর্যন্ত মুখে উচ্চারণ করতে পারেন না। বিচার চেয়ে চলা এক লড়াকু মায়ের এই বুকফাটা আর্তনাদ উপস্থিত সকলের চোখে জল এনে দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *