৪০ হাজার কোটির আর্থিক তছরুপ মামলা! আরকম ও শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল ইডির

রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড (RCom) এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে চলা বিশাল আর্থিক তছরুপের মামলায় তদন্ত আরও জোরদার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সম্প্রতি নয়াদিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ পিএমএলএ (PMLA) আদালতে এই অর্থ পাচার মামলায় একটি সম্পূরক অভিযোগপত্র (Supplementary Prosecution Complaint) দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। এর আগে গত ২৭ মার্চ এই মামলায় মূল অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল।
মামলায় অভিযুক্ত কারা?
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নতুন অভিযোগপত্রে মেসার্স রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড (RCom), মেসার্স রিলায়েন্স টেলিকম লিমিটেড (RTL)-এর পাশাপাশি সংস্থার শীর্ষ আধিকারিক গৌতম ভাইলাল দোশি, সতীশ শেঠ এবং অমিতাভ ঝুনঝুনওয়ালা-র মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পিএমএলএ আইনের ৪ নম্বর ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের ভিত্তিতে এই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির করা অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআরের অনুসারেই এই অর্থ পাচারের তদন্ত শুরু করেছিল ইডি।
ইডির তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্যসমূহ:
-
তহবিলের অপব্যবহার ও ‘এভারগ্রিনিং’: আরকম, আরটিএল এবং রিলায়েন্স ইনফ্রাটেল লিমিটেডের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে ঋণ সুবিধা নেওয়ার এবং সেই ঋণ নির্দিষ্ট কাজের পরিবর্তে ভিন্ন খাতে খরচ করার অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক থেকে নেওয়া সেই অর্থ পুরনো দেশীয় ও বৈদেশিক দেনা শোধ করতে এবং ঋণ আবর্তন বা ‘এভারগ্রিনিং’ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়েছিল।
-
তহবিল পাচার: গ্রুপ কোম্পানি, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী সংস্থা এবং লিকুইড মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে একাধিক স্তরে ঘুরে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে। ফরেন কারেন্সি কনভার্টিবল বন্ড (FCCB) এবং এক্সটার্নাল কমার্শিয়াল বরোয়িং (ECB)-এর দায় মেটাতে এই টাকা ব্যবহার করা হলেও নথিপত্রে সেগুলিকে সম্পূর্ণ বৈধ ব্যবসায়িক ব্যয় বলে দেখানো হয়েছিল।
-
গ্রুপ কোম্পানিতে টাকা স্থানান্তর: তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০০৭ সাল থেকেই এই আর্থিক জালিয়াতি চলে আসছে। ঋণের সেই টাকা মেসার্স রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এবং মেসার্স রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেডের মতো গ্রুপ সংস্থায় পাঠানো হতো। পাশাপাশি, কোম্পানির মুনাফা কৃত্রিমভাবে বেশি দেখাতে এবং প্রোমোটারদের ভারতের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পত্তি কিনতে ও ঋণ পরিশোধ করতেও এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল।
অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪০,১৮৫ কোটি টাকা
ইডি জানিয়েছে, এই আর্থিক তছরুপের মামলায় অপরাধলব্ধ মোট অর্থের পরিমাণ ৪০,১৮৫.৫৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বন্ডহোল্ডারদের যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে এই সংস্থাগুলি ব্যর্থ হয়েছে, তা এই অঙ্কের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি, এফসিসিবি-র মাধ্যমে সংগৃহীত প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল তছরুপের নেপথ্যে অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কতটা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।