বাংলায় কি ফের বাড়ছে বর্ষার প্রকোপ? কোন কোন জেলায় বইবে দুর্যোগের ঝড়?

দেশজুড়ে এই মুহূর্তে প্রবলভাবে সক্রিয় রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বা বর্ষা। উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব ভারত—দেশের প্রায় সমস্ত রাজ্যেই চলছে ভারী বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন এই দুর্যোগ থেকে এখনই স্বস্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। পাহাড়ি রাজ্যগুলি থেকে শুরু করে সমতলের একাধিক রাজ্যে জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।
দিল্লি-এনসিআর-এ লাগাতার বৃষ্টি
দিল্লি এবং তার পার্শ্ববর্তী এনসিআর (Delhi-NCR) এলাকায় বিগত ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ১৩ আগস্টের আগে রাজধানীতে এই বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। আজ দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একটানা এই বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় জল জমে যাওয়ার খবর মিলেছে।
কোন কোন রাজ্যে বৃষ্টির সতর্কতা?
-
উত্তরপ্রদেশ ও বিহার: উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় ৮ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ (Yellow Alert) জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের বেশ কিছু জেলাতেও বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
-
পশ্চিমবঙ্গ: পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, কলকাতা এবং হাওড়া জেলায় বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
-
অন্যান্য রাজ্য: রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, উপকূলীয় মহারাষ্ট্র এবং গোয়াতেও বৃষ্টির একই রকম আবহাওয়া বজায় থাকবে। ওড়িশার কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
পাহাড় ও উত্তর-পূর্বে দুর্যোগের মেঘ
-
উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশ: দেবভূমি উত্তরাখণ্ডে বর্ষার তাণ্ডবে ইতিমধ্যেই নদীগুলি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। পাহাড়ি রাস্তায় ধস ও ফাটল ধরার খবর মিলছে। আগামী সাত দিন রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরের কিছু অংশেও হলুদ সতর্কতা বহাল রয়েছে।
-
আসামে ফের বন্যার আশঙ্কা: বন্যাবিধ্বস্ত আসামের পরিস্থিতি ফের অবনতির দিকে। আবহাওয়া দপ্তর আসামের জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ (Red Alert) জারি করেছে। যেসব অঞ্চলে বন্যার জল কিছুটা কমতে শুরু করেছিল, সেখানে নতুন করে ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ফের মারাত্মক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে বন্যায় ৯৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১৫টি জেলার প্রায় ১ লক্ষ ৬৮ হাজার মানুষ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।