ঝাড়খণ্ডে চাকরি আন্দোলন ও দুর্নীতির তদন্তে বিরাট ধাক্কা! রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠালেন তিন আধিকারিক

ঝাড়খণ্ডে JPSC (ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন) এবং JSSC পরীক্ষার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে চলা তুমুল ছাত্র বিক্ষোভের আবহে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটল। সিআইডির তলব এবং তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তিন সদস্য— অজিতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা এবং জামাল আহমেদ পদত্যাগ করেছেন। সিআইডির নোটিশ পাওয়ার পরই তাঁরা রাজ্যপালের কাছে নিজেদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন, যা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গাঙ্গোয়ার।

সিআইডির কড়া পদক্ষেপ ও তদন্ত

পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত করছে সিআইডি (CID)। তদন্তের স্বার্থে কমিশনের ওই তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। সিআইডির নির্দেশ অনুযায়ী, অজিতা ভট্টাচার্যকে ১০ আগস্ট, অনিমা হাঁসদাকে ১২ আগস্ট এবং জামাল আহমেদকে ১৪ আগস্ট হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল।

এই তদন্তের অন্যতম প্রধান দিক হলো ‘টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড’ (TDPL)-এর নির্বাচন ও তালিকাভুক্তি। পূর্বে কালো তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ঠিক কোন যুক্তিতে বা কার স্বার্থে এই সংস্থাকে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

আন্দোলন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি

রবিবার সরকার এবং আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা হলেও সম্পূর্ণ বরফ গলেনি। সরকার বেশ কিছু দাবি মেনে নিলেও পড়ুয়ারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে এবং আগামী ১০ আগস্ট ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছে।

এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন সোশ্যাল মিডিয়ায় যুবসমাজকে বার্তা দিয়ে বলেন, রাজ্য সরকার শিক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং নির্ভরযোগ্য করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সৎ পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করাই তাঁদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে তিন সদস্যের পদত্যাগের পর এই ছাত্র আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *