‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল ইমার্জেন্সি!’ নতুন সরকারের ৯০ দিন পূর্তিতে ঐতিহাসিক উদ্যোগ নবান্নে

নতুন সরকারের ৯০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকল নবান্ন। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার (Emergency) অন্ধকার দিনে যাঁরা বুক চিতিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করেছিলেন, সেই সমস্ত আন্দোলনকারীদের বিশেষ সম্মান জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্নে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জন ‘লোকতন্ত্র সেনানী’কে সংবর্ধনা জানানো হয়।

পুষ্পবৃষ্টি ও বৈদিক মন্ত্রপাঠ

এদিনের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর উপস্থিতি ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবীণ সেনানীদের উপর অর্ঘ্য ও পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। পাশাপাশি, তাঁদের সম্মান জানাতে বৈদিক মন্ত্রপাঠের আয়োজন করা হয়, যা পুরো অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রা দেয়।

জরুরি অবস্থাকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ’ আখ্যা শুভেন্দুর

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ১৯৭৫ সালের ২৫ জুনের সেই বিভীষিকাময় দিনের কথা স্মরণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সেই সময় দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাকে নিছক রাজনৈতিক সংকট বলা চলে না; বরং তা ছিল একটি ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ’।

তাঁর দাবি, তৎকালীন সময়ে গোটা দেশকে কার্যত একটি বিশাল কারাগারে পরিণত করা হয়েছিল। ‘মিসা’ (MESA) আইনের জেরে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে বিনা বিচারে জেলে পোরার পাশাপাশি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS)-এর মতো বহু গণতন্ত্রপ্রিয় সংগঠনকে বেআইনি ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াইয়ের স্বীকৃতি

জরুরি অবস্থার সেই কঠিন দিনগুলিতে যারা সমস্ত ভয়কে জয় করে চোখের দিকে চোখ রেখে লড়াই চালিয়েছিলেন, তাঁদের স্যালুট জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হলেও বহু মানুষ দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। গণতন্ত্রের সপক্ষে দাঁড়িয়ে যাঁরা এই অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রত্যেককে যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি জানানোই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *