সোমবার বা শনিবারে শিবলিঙ্গে অর্পণ করুন এই বিশেষ জিনিস! মুহূর্তে কেটে যাবে জীবনের সমস্ত অমঙ্গল ও বাধা

জীবনের নানা প্রতিকূল সমস্যা আর মানসিক অশান্তিতে কি দিশেহারা হয়ে পড়ছেন? জ্যোতিষশাস্ত্র কিন্তু বলছে, খুব সহজ এবং ঘরোয়া একটা উপায়েই এই সমস্ত বিপদ থেকে মিলতে পারে মুক্তি। আপনার রাশিতে যদি শনির সাড়েসাতি, মহাদশা কিংবা রাহুর কুপ্রভাব চলে, তবে দেবাধিদেব মহাদেবের শরণাপন্ন হওয়াই হলো সবচেয়ে মোক্ষম পথ। আর এই কাজে আপনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে মাত্র এক চিমটি কালো তিল! প্রতি সোমবার বা শনিবারে নিয়ম মেনে শিবলিঙ্গে কালো তিল (Black Sesame) নিবেদন করলে কেবল দেবাদিদেবের কৃপাই মেলে না, জীবন থেকে কেটে যায় বড় বড় অমঙ্গলও।

জ্যোতিষশাস্ত্র কী বলছে?
বৈদিক শাস্ত্র মতে, কালো তিল সরাসরি শনি গ্রহের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। জাতকের কোষ্ঠীতে যদি শনির সাড়েসাতি, ঢাইয়া বা রাহুর মহাদশা চলে, তবে জীবনে একের পর এক বাধা ও ব্যর্থতা আসতে থাকে।

গ্রহের শান্তি: প্রতি সোমবার বা শনিবারে শিবলিঙ্গে জল বা কাঁচা দুধের সঙ্গে কালো তিল মিশিয়ে অর্পণ করলে শনি ও রাহুর কু-দৃষ্টি অনেকটাই শান্ত হয়।

দোষ খণ্ডন: কুণ্ডলীতে কালসর্প দোষ বা পিতৃ দোষ থাকলে, এই নিয়মটি নিষ্ঠাভরে মেনে চললে পিতৃপুরুষের আত্মা শান্তি পায় এবং সমগ্র পরিবারের কল্যাণ সাধিত হয়।

মানসিক শক্তি বৃদ্ধি: অহেতুক ভয়, দুশ্চিন্তা ও নেতিবাচক চিন্তা দূর করে মনের জোর ও সাহস বাড়াতেও এর জুড়ি মেলা ভার।

পুজো করার সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি
সঠিক দিন ও পোশাক: এই বিশেষ পুজোর জন্য সপ্তাহের সোমবার ও শনিবার হলো সবচেয়ে সেরা দিন। এছাড়া অমাবস্যা বা শিবরাত্রিতেও এই প্রতিকার করা যায়। সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার ও হালকা রঙের পোশাক পরে পুজোয় বসুন।

জলের মিশ্রণ: তামা বা পিতলের একটি ঘটে পরিষ্কার জল কিংবা গঙ্গাজলের সঙ্গে সামান্য কাঁচা দুধ এবং এক চিমটি কালো তিল মিশিয়ে নিন।

মন্ত্র জপ: ধীরেসুস্থে ভক্তিভরে শিবলিঙ্গে এই মিশ্রণ ঢালুন এবং মনে মনে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ বা ‘ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ’ মন্ত্র জপ করতে থাকুন।

সরাসরি তিল অর্পণ: জল বা দুধ ঢালার পর ডান হাতের অনামিকা এবং বুড়ো আঙুল দিয়ে এক চিমটি ভেজা তিল শিবলিঙ্গে নিবেদন করুন। এর সঙ্গে আকন্দ ফুল, ধুতুরা বা বেলপাতাও দিতে পারেন। পুজো শেষে জোড়হাতে নিজের সমস্ত কষ্ট ও কামনার কথা মহাদেবের কাছে নিবেদন করুন।

ভুলেও যে কাজগুলি করবেন না
শিবপুজোয় বা কালো তিল অর্পণের সময় কিছু নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত:

শুকনো শিবলিঙ্গে কখনও শুকনো তিল ছিটাবেন না; জল বা দুধের মাধ্যমেই তিল অর্পণ করুন।

পুজো দেওয়ার সময় কুচকুচে কালো রঙের জামাকাপড় পরা এড়িয়ে চলুন।

পোকা ধরা, নোনা লাগা বা বাসি তিল ভুলেও ব্যবহার করবেন না। সবসময় পরিষ্কার ও ভালো মানের তিল বেছে নিন।

এক ঘটি জলে এক চিমটি কালো তিলই যথেষ্ট, অতিরিক্ত তিল ঢেলে অপচয় করবেন না।

মনের ভেতর রাগ, হিংসা বা অন্যের খারাপ চিন্তা রেখে ভুলেও পুজোয় বসবেন না।

শিবলিঙ্গ পরিক্রমা করার সময় জলের নির্গমন পথ বা ‘অর্ধসোম’ ভুলেও টপকাবেন না; জল বেরোনোর রাস্তা পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে অর্ধেক ঘুরে আবার বিপরীত দিকে ফিরে আসুন।

মনকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও শান্ত রেখে শাস্ত্রের এই সাধারণ নিয়মগুলি মেনে চলুন। দেবাধিদেব মহাদেবের আশীর্বাদে জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি কেটে গিয়ে সুখ ও শান্তি ফিরে আসবে বলেই জানাচ্ছেন বিশিষ্ট জ্যোতিষবিদরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *