‘ডিম ছোড়ার ভয়ে পুলিশে হাজিরা দেবেন না?’ শীর্ষ আদালতের কড়া ধমক খেয়ে পিছু হটল মহুয়া শিবির

পুলিশি তলবে সশরীরে হাজিরা না দিয়ে ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কিন্তু সেই মামলার শুনানিতেই কৃষ্ণনগরের সাংসদের আইনজীবীর করা যুক্তিতে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, রাজনীতিতে নেমে যদি ডিম মারার ভয়ে থানায় যেতে ভয় পান, তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। শুনানির সময় বিচারপতিদের মন্তব্য ছিল, ‘আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুকে গুলি খেয়েছেন। আর আপনি রাজনীতিতে নেমে ডিম ছোড়া হবে বলে ভয় পাচ্ছেন?’ সুপ্রিম কোর্টের এমন কড়া বার্তার পরেই মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী মামলাটি তুলে নেন এবং শীর্ষ আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়।
বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তীতে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের স্বার্থেই পুলিশের সামনে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল মহুয়ার। কিন্তু সশরীরে থানায় হাজির না হয়ে ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন এই তৃণমূল সাংসদ। আগামী ১ অক্টোবর হাইকোর্টে মামলাটির ফের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া মৈত্রীর পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি আদালতকে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান যে, সশরীরে থানায় হাজিরা দিতে গেলে তৃণমূল সাংসদকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার মতো হামলা হতে পারে। কারণ ইতিপূর্বেও তাঁর ওপর এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
তবে এই যুক্তি শুনেই বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগু স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়ে যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে হস্তক্ষেপ করতে তাঁরা মোটেই রাজি নন। মহুয়ার আইনজীবীকে উদ্দেশ করে ক্ষুব্ধ ডিভিশন বেঞ্চ বলে, ‘আপনি একজন সাংসদ। রাজনীতিতে নেমে আপনি ডিম হামলার ভয় পাচ্ছেন? এই ধরনের আবেদন সুপ্রিম কোর্টে আসাই উচিত নয়।’ শীর্ষ আদালতের এই তিরস্কারের পরেই মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।