কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে হচ্ছে ২০৯টি, কোন এলাকায় কী পরিবর্তন আসছে? দেখে নিন তালিকা

কলকাতার বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে মোট ২০৯টি ওয়ার্ড করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সেই মোতাবেক কলকাতা পুর আইন (১৯৮০)-এর তফসিল-২ অনুযায়ী প্রস্তাবিত ওয়ার্ডগুলির সীমানা নির্ধারণ করে প্রাথমিক খসড়া প্রকাশ করেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। ৩০ পাতার এই বিশদ খসড়া নথিতে প্রতিটি ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানা রাস্তা, খাল, রেললাইন, নদী ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

খসড়া পর্যালোচনা ও আপত্তি জানানোর সুযোগ

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এটি কোনো চূড়ান্ত তালিকা নয়, বরং প্রাথমিক খসড়া। এই খসড়াটি সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

  • সময়সীমা: গত ৫ অগাস্ট থেকে শুরু হয়েছে, যা আগামী ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

  • কলকাতা পুরসভার দফতরে অফিস চলাকালীন সময়ে যে কেউ এই খসড়াটি দেখতে পারবেন।

  • কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যদি এই প্রস্তাবিত সীমানা নিয়ে কোনো আপত্তি বা পরামর্শ জানাতে চান, তবে তাঁরা আগামী ১৩ অগাস্টের মধ্যে লিখিতভাবে কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের কাছে তা জমা দিতে পারবেন।

নাগরিকদের মতামত ও আপত্তিগুলি খতিয়ে দেখার পর এবং কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করেই চূড়ান্ত তফসিল প্রকাশ করা হবে। নতুন এই সীমানা কার্যকর হলে ভবিষ্যতের কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে ওয়ার্ডগুলির ভৌগোলিক বিস্তার ও ভোটার বিন্যাসে বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে।

একনজরে কিছু প্রস্তাবিত ওয়ার্ড ও তার এলাকা:

প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী কলকাতার প্রথম ১৫টি ওয়ার্ড এবং তার সীমানা ও অন্তর্ভুক্ত এলাকার একটি প্রাথমিক বিবরণ নিচে দেওয়া হলো (তবে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির আগে এগুলিতে পরিবর্তন হতে পারে):

  • ১ নম্বর ওয়ার্ড: কাশীপুর-চিৎপুর অঞ্চলের বড় অংশ। উত্তরে প্রামাণিক ঘাট রোড, কসিপুর রোড ও কাশীনাথ দত্ত রোড এবং পশ্চিমে হুগলি নদী।

  • ২ নম্বর ওয়ার্ড: কাশীপুরের দক্ষিণাংশ। খগেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রোড, বিটি রোড ও কসিপুর রোড সংলগ্ন আবাসিক এলাকা।

  • ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড: দক্ষিণ সিঁথি ও দমদম রোড সংলগ্ন এলাকা। কালিচরণ ঘোষ রোড, দমদম রোড এবং পূর্ব রেললাইন এই ওয়ার্ডগুলির সীমানা নির্ধারণ করেছে।

  • ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড: পাইকপাড়া এলাকা। রাজা মনীন্দ্র রোড, বীরপাড়া লেন, নর্দার্ন অ্যাভিনিউ ও বিটি রোডের মধ্যবর্তী অংশ।

  • ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড: কাশীপুর ও চিৎপুরের নদীতীরবর্তী অঞ্চল। রতনবাবু রোড, কৃপানাথ দত্ত রোড থেকে শুরু করে হুগলি নদীর তীর পর্যন্ত বিস্তৃত।

  • ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ড: বেলগাছিয়া ও পাইকপাড়া সংলগ্ন এলাকা। খুদিরাম বসু সরণি, সার্কুলার ক্যানাল, ইন্দ্র বিশ্বাস রোড এবং পূর্ব রেললাইনের মধ্যবর্তী অংশ।

  • ১২ নম্বর ওয়ার্ড: উল্টোডাঙা ও বেলগাছিয়া সংলগ্ন অঞ্চল। নিউ সার্কুলার ক্যানাল, বিধাননগর রোড ও আরিফ রোড এই ওয়ার্ডের অন্তর্গত।

  • ১৩ নম্বর ওয়ার্ড: উল্টোডাঙা, শ্যামবাজার ও মানিকতলা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। ক্যানাল ইস্ট রোড ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোডের অংশ বিশেষ।

  • ১৪ নম্বর ওয়ার্ড: শ্যামবাজার ও বাগবাজারের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল। শ্যামবাজার স্ট্রিট, ভূপেন্দ্র বসু অ্যাভিনিউ, বিধান সরণি ও যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউ ঘেরা এলাকা।

  • ১৫ নম্বর ওয়ার্ড: বাগবাজার ও হুগলি নদীর তীরবর্তী অঞ্চল। সার্কুলার ক্যানাল, বোসপাড়া লেন, গিরিশ অ্যাভিনিউ এবং হুগলি নদীর অংশ নিয়ে গঠিত।

চূড়ান্ত তফসিল প্রকাশিত হওয়ার পরই নতুন ওয়ার্ডগুলির সীমানা এবং নির্বাচনী বিন্যাস পুরোপুরি কার্যকর হবে বলে পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *