মহিলাদের ৩০০০ টাকার ভাতা বন্ধ? অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে চাঞ্চল্যকর জল্পনায় শোরগোল রাজ্যজুড়ে!

রাজ্যবাসীর অন্দরে ও বিভিন্ন মহলে ইদানিং একটি জল্পনা দারুণভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে—তবে কি বন্ধ হয়ে যেতে পারে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) প্রকল্প? যে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এত উন্মাদনা, তা ঠিকমতো চালু হওয়ার আগেই কেন বন্ধ হওয়ার গুঞ্জন উঠল? আসুন জেনে নেওয়া যাক এই চাঞ্চল্যকর খবরের নেপথ্যের আসল কারণ।
হঠাৎ কেন রটল এই খবর?
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে রাজ্যের মহিলাদের মাসিক ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক ভাতা দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই ক্ষমতায় আসার পরে চালু করা হয় জনপ্রিয় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প’।
গত মাস তিনেক ধরে রাজ্যের হাজার হাজার মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই ৩,০০০ টাকার কিস্তি ঢুকতেও শুরু করে। কিন্তু এর পাশাপাশি বহু মহিলা অভিযোগ করেন যে তাঁরা এখনও এই সুবিধার আওতায় আসেননি। কবে তাঁরা টাকা পাবেন বা আদৌ পাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা।
অযোগ্যদের বাছাই করতে গিয়েই বিপত্তি
সূত্রের খবর, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য কারা প্রকৃতপক্ষেই যোগ্য, সেই তালিকা তৈরি করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারি কর্মীদের। অতীতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনেকের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অমিল থাকায় প্রচুর অযোগ্য ব্যক্তিও ভাতা পেয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
তাই এবার রাজ্য সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে—যাতে কেবল মাত্র প্রকৃত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা যোগ্য মহিলারাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পান। কিন্তু এই বিশাল যাচাইকরণ বা স্ক্রুটিনির কাজ সামলাতেই প্রশাসনের কালঘাম ছুটে যাচ্ছে। আর ঠিক এখান থেকেই জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে যে, হয়তো বা এই জটিলতার জেরে প্রকল্প বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
আদতে কতটা সত্য এই খবর?
সরকারি মহলে কান পাতলে অবশ্য অন্য ছবিই উঠে আসছে। প্রশাসনের একটি অংশের মতে, যারা এই প্রকল্পের জন্য সত্যি যোগ্য, তারা অবশ্যই নিয়মিত মাসিক ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। তবে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল বা অযোগ্য ব্যক্তিদের কিছুতেই এই সরকারি ভাতা দেওয়া হবে না। সেই কারণে চলতি বছরেই এই প্রকল্পের নিয়মাবলীতে কিছু পরিবর্তন বা কড়াকড়ি আনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে এই প্রকল্প বন্ধ হওয়া নিয়ে কোনো সরকারি নির্দেশিকা বা নোটিশ জারি করা হয়নি। তাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরটি কেবলই একটি জল্পনা মাত্র। আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া রাজ্যের মহিলারা যাতে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পান, তার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নিচ্ছে।