ভোরে ৫.১ মাত্রার শক্তিশালী কম্পন! দফায় দফায় কেঁপে উঠল অরুণাচল প্রদেশ, বড় বিপদের আশঙ্কায় আতঙ্ক

বৃহস্পতিবার মাঝরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় শক্তিশালী ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ। বারবার মৃদু ও মাঝারি কম্পনের জেরে রাতের ঘুম ভেঙে আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে ভোরের ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি, যার জেরে পুরো এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।

দফায় দফায় কম্পনের সময়সূচি ও মাত্রা
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আপার সিয়াং জেলায় বারবার মাটি কেঁপে ওঠে:

প্রথম কম্পন: রাত ৩টা ৪০ মিনিট (মাত্রা: ২.৮, গভীরতা: ৫ কিমি)। মৃদু হওয়ায় অনেকেই তা বুঝতে পারেননি।

দ্বিতীয় কম্পন: রাত ৩টা ৫৫ মিনিট (মাত্রা: ৩.২)।

তৃতীয় কম্পন: ভোর ৪টা ৩৪ মিনিট (মাত্রা: ২.৮)।

প্রধান ও সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন: সকাল ৫টা ৪৫ মিনিট। এই মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫.১। এর কেন্দ্রস্থল ছিল পাঙ্গিন থেকে প্রায় ১১৬ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১১ কিলোমিটার গভীরে।

আফটার শক: মূল কম্পনের পরও আতঙ্ক কাটেনি। সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে মাটির ৫ কিলোমিটার গভীরে ৩.৫ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয়। একটানা কয়েক ঘণ্টা ধরে এভাবে একাধিক ভূকম্পন বা ‘সিসমিক সোয়ার্ম’-এর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই, তবে কেন এত আতঙ্ক?
রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে প্রাথমিক রিলিফে জানানো হয়েছে যে, এই দফায় দফায় ভূমিকম্পের ফলে এখনও পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে একের পর এক কম্পনের জেরে সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

কেন অরুণাচলে এত ভূমিকম্প?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অরুণাচল প্রদেশ সহ সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল অত্যন্ত সংবেদনশীল সিসমিক জোন-ভি (Seismic Zone V)-এর অন্তর্ভুক্ত। পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের জটিল ভূ-গাঠনিক ফল্ট লাইন বা চ্যুতির কারণে এই এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি সব সময়ই সবচেয়ে বেশি থাকে।

বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হিমালয় পর্বতমালা তৈরির সময় থেকেই ইউরেশীয় (Eurasian) ও ভারতীয় প্লেটের (Indian Plate) মধ্যে অবিরাম সংঘর্ষ ও ঘর্ষণ চলছে। এই দুই প্লেটের সংযোগস্থলে তৈরি হয়েছে অজস্র চ্যুতি। নিরন্তর এই ঘর্ষণের ফলে ভূগর্ভে প্রচুর শক্তি সঞ্চিত হতে থাকে এবং সেই সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত সীমায় পৌঁছে গেলেই প্রবল ঝাঁকুনি বা ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। ধারাবাহিক এই ভূকম্পনের জেরে বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় এখন দিন কাটাচ্ছেন অরুণাচলবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *