‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটাই কি তবে পাকাপাকি? কী সাফ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক জল্পনা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের নাম অপরিবর্তিতই থাকছে। রাজ্যের নাম বদলের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

কেন নাম বদল নয়? দেশভাগের ইতিহাস টানলেন শুভেন্দু

রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার পক্ষে অতীতে একাধিক যুক্তি খাড়া করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। বিশেষ করে কেন্দ্রের বিভিন্ন বৈঠকে ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমতালিকার (Alphabetical Order) একদম শেষে ‘West Bengal’-এর ‘W’ আসার কারণে রাজ্যের দাবিদাওয়া পেশ করতে সমস্যা হয়—এই যুক্তি দেখিয়ে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

তবে সেই যুক্তি খারিজ করে পুরোপুরি ঐতিহাসিক এবং আবেগপ্রবণ কারণ সামনে এনেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের ভয়াবহ ইতিহাস স্মরণ করে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ নামের সঙ্গে এক বিশাল ঐতিহ্য ও শহিদদের বলিদান জড়িত রয়েছে।

এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা মন্ত্রিসভায় বসে ঠিক করেছি, পশ্চিমবঙ্গ নামটার মধ্যে ব্যাপক একটা ঐতিহ্য লুকিয়ে রয়েছে। কারণ বিভীষিকাময় দেশভাগ যেদিন হয়েছিল, ১৯৪৭ সালে, সেদিন আমাদেরকে পাকিস্তানে (পূর্ব পাকিস্তান) নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল। সেদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, পূর্ব পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয় এবং তার ফলেই পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই দেশভাগের এই কঠিন বাস্তব ও ইতিহাসকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। সেই কারণেই ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান মন্ত্রিসভা।

অতীতে নাম বদল নিয়ে কী কী পদক্ষেপ হয়েছিল?

২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রথমে ইংরেজিতে ‘Paschimbanga’ এবং পরবর্তীতে ২০১৬ ও ২০১৮ সালে সংশোধনী এনে রাজ্যের নাম পাকাপাকিভাবে ‘Bangla’ করার প্রস্তাব পাশ করানো হয়। মমতার যুক্তি ছিল, বর্ণানুক্রমিক তালিকায় রাজ্যকে সামনের সারিতে নিয়ে আসার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই নামকরণ দরকার। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর আপাতত সেই বিতর্কে ইতি টানল রাজ্য সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *