‘মেসেজ করেছিলাম…,’ ফুলের তোড়া নিয়ে শুভেন্দুর কাছে হুমায়ুন, নজরে রেজিনগর

সামনেই রয়েছে রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন। ঠিক এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খবরের শিরোনামে চলে এলেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কিছুদিন আগে যে আসনটি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ছেড়ে দেওয়ার অফার দিয়েছিলেন তিনি, এবং কয়েকমাস আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে ও উস্কানিমূলক বক্তব্য পেশ করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন— সেই হুমায়ুনকেই এবার দেখা গেল সটান নবান্নে। হাতে বড় সাইজের ফুলের তোড়া নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তরে হাজির হন তিনি এবং দীর্ঘক্ষণ বৈঠকও করেন।

১. ‘মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক আগেই মেসেজ করেছিলাম’: হুমায়ুন কবীর

বুধবার বিকেলে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন হুমায়ুন। তিনি জানান, পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। হুমায়ুনের কথায়, “আমি মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক আগে থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করেছিলাম যে, ওঁর সঙ্গে একবার ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে চাই। উনি আমায় নবান্নে সময় দিয়েছিলেন। সেইমতো এদিন সন্ধে ৬টা নাগাদ ওঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়। মূলত মুর্শিদাবাদ জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়েই এদিন ওঁর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।”

২. অতীত বিরোধ ও শুভেন্দুর কড়া অবস্থান

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই হুমায়ুন কবীরই গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তিনি প্রকাশ্য জনসভায় বলেছিলেন, “আমি যে দিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব, সে দিন স্যাটা ভাঙা মার শুরু করব যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না।”

তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুনকে তীব্র ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, হুমায়ুনের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা রয়েছে। অতীতে তিনি ১৩৫ জন বিধায়ক জিতিয়ে নিজে উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এমনকি উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে ৭২ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগর কেন্দ্র থেকে জিতিয়ে আনার ছক কষছেন বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন শুভেন্দু।

৩. রেজিনগর উপনির্বাচন ও রাজনৈতিক সমীকরণ

অতীতে কড়া হুঙ্কার দিলেও, বুধবার নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে দেখা গেছে হুমায়ুন কবীরকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপি তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে।

আসন্ন রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমে পড়েছে গেরুয়া শিবির। এই উপনির্বাচন পরিচালনার জন্য দলের রাজ্য সহ-সভাপতি প্রবাল রাহা-কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একসময়ের বাম জমানায় ফরওয়ার্ড ব্লক (ফব) নেতা তথা তৎকালীন মন্ত্রী কমল গুহের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে পরিচিত প্রবাল রাহা সংগঠন পরিচালনায় অত্যন্ত দক্ষ। এমন এক কঠিন লড়াইয়ের মুখে হুমায়ুনের এই নবান্ন সফর এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *