সিলিন্ডার বা দামি এলপিজি নয়! গোবরের গ্যাসে ফ্রিতে তিনবেলা রান্না করে তাক লাগালেন ডুয়ার্সের চা শ্রমিক

রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম এবং দুর্গম এলাকা থেকে সিলিন্ডার বয়ে আনার অতিরিক্ত ঝক্কি— এই জোড়া ফলার হাত থেকে বাঁচতে অভিনব এক পথ দেখালেন ডুয়ার্সের এক চা শ্রমিক। সিলিন্ডারের ওপর একশো শতাংশ নির্ভরতা কমিয়ে গোবর থেকে তৈরি বায়োগ্যাসে এখন অনায়াসে পরিবারের তিনবেলার রান্না সেরে ফেলছেন মেটেলির কৃপা হাঁসদা। কোনও লগ্নি বা বাড়তি খরচ ছাড়াই দিব্যি জ্বলছে নীল শিখার গ্যাসের আগুন।

দুর্গম এলাকার চিরতরে মুক্তি
মেটেলি ব্লকের আইবিল চা বাগানের একদম প্রান্তে অবস্থিত মাথুরা লাইন। বাজারহাট থেকে শুরু করে রান্নার এলপিজি সিলিন্ডার সংগ্রহ— সবেকিছুর জন্যই এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের নির্ভর করতে হয় চালসা বাজারের ওপর। দূরত্বের কারণে একদিকে যেমন যাতায়াত খরচ বাড়ে, তেমনই দুর্গম রাস্তা দিয়ে ভারী সিলিন্ডার বহন করা এক বিরাট ভোগান্তি। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে এলাকায় এক নতুন নজির গড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা কৃপা হাঁসদা।

কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই গ্যাস?
কৃপার প্রতিদিনের রান্নার রুটিন শুরু হয় গোয়ালঘরের ৩০ কেজি গোবরের সঙ্গে ৪০ লিটার জল মিশিয়ে। সেই বিশেষ মিশ্রণ বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে ফেলা মাত্রই প্রাকৃতিক উপায়ে গ্যাস উৎপাদিত হয়, যা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে যায় তাঁর রান্নাঘরের বিশেষ ওভেনে। এতে যেমন রান্নার সময় কোনও ধোঁয়া হয় না, তেমনই নেই কোনো বাড়তি আর্থিক চাপ। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতের রান্না এখন এই পরিবেশবান্ধব গ্যাসের মাধ্যমেই সম্পন্ন হচ্ছে।

‘প্রসারী’ সংস্থার উদ্যোগ ও সাফল্য
পরিবেশবান্ধব এই টেকসই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে ‘প্রসারী’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিশেষ ভূমিকা। ২০২৫ সালে তাদের সহযোগিতায় মাথুরা লাইনে মোট ৪টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছিল। সেই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে কৃপা আজ এলপিজিমুক্ত জীবনের স্বস্তি উপভোগ করছেন।

গোবরের মতো সহজলভ্য ও ফেলে দেওয়া বর্জ্য পদার্থকে সদ্ব্যবহার করে কীভাবে জ্বালানি সংকট এবং আকাশছোঁয়া মূল্যের বাজারে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, তা করে দেখিয়েছেন কৃপা হাঁসদা। প্রান্তিক ডুয়ার্সের চা বাগান অঞ্চলে তাঁর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *