অসমের বানভাসীদের জন্য ত্রাতা ‘ভাইজান’! ৫০০টি ফ্লাড-প্রুফ ঘর তৈরির মেগা প্রজেক্ট সলমন খানের

গত ছয় দশকের মধ্যে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছে অসম। জলের স্তর কিছুটা কমলেও কাটেনি বিপর্যয়, মাথার ওপর ছাদ হারিয়ে পুরোপুরি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার অসহায় মানুষ। এমন এক চরম সংকটময় মুহূর্তে বানভাসী মানুষের পাশে ত্রাতা হিসেবে এসে দাঁড়ালেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সলমন খান।
কেবল সাময়িক ত্রাণ বা খাবার পাঠানোই নয়, বরং বানভাসী মানুষের স্থায়ী আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করতে এবার এক বিরাট উদ্যোগ নিয়েছে সলমন খানের নিজস্ব সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী অথচ শক্তপোক্ত ‘ফ্লাড-প্রুফ’ ঘর তৈরি করে দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেতা।
কীভাবে শুরু হল এই উদ্যোগ?
ত্রাণকার্যের প্রথম ধাপে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পর এবার সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে পুনর্বাসনের ওপর। অসমের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে একটি হলো শিবসাগরের ‘নেপালি খুটি’ গ্রাম। জানা গেছে, সম্প্রতি অভিনেতা রণদীপ হুডার অন-গ্রাউন্ড ত্রাণকাজের বেশ কিছু ভিডিয়ো সলমনের নজরে আসে। সেখানে অভিনেতা রণদীপ ‘গ্লোবাল শিখস’ (Global Sikhs) নামক একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বানভাসী মানুষের সেবা করে চলেছেন।
সেই ভিডিয়ো দেখেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ‘ভাইজান’। এরপর এক পারস্পরিক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেন রণদীপের সঙ্গে।
বাঁশ ও টিনের তৈরি বিশেষ ‘ফ্লাড-প্রুফ’ বাড়ি
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিংহ এবং রণদীপ হুডার সঙ্গে আলোচনা করে সলমন জানতে পারেন তাঁদের অভিনব পুনর্বাসন ভাবনার কথা। জলমগ্ন বা প্লাবিত এলাকায় মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বাঁশ ও টিনের শেড দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হচ্ছে এই ঘরগুলি, যা জল বাড়লেও নষ্ট হয় না। প্রতিটি বাড়ি তৈরিতে খরচ পড়ছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।
বিষয়টি জানার পরেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর পক্ষ থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন সলমন খান এবং একযোগে ৫০০টি বাড়ি তৈরির অঙ্গীকার করেন।
ইতিমধ্যেই নেপালি খুটি এলাকায় ২২০টি নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে এবং সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে তুলে দেওয়াও শুরু হয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০টি করে নতুন বাড়ি তৈরি করছেন। ‘গ্লোবাল শিখস’-এর প্রধান অমরপ্রীত সিং জানিয়েছেন, সলমন খান নিজে তাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে আশ্বস্ত করে বলেছেন— “আপনারা একদম চিন্তা করবেন না, আমরা আপনাদের পাশেই আছি।”
অন্যদিকে, শিবসাগর রেল স্টেশনে যাঁরা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রতিদিন লঙ্গরের ব্যবস্থা করে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন অভিনেতা রণদীপ হুডা নিজেই। তাঁর মতে, মানবতার চেয়ে বড় ধর্ম আর কিছু হতে পারে না এবং বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল কর্তব্য। বলিউডের এই দুই তারকার এমন মানবিক ও সম্মিলিত প্রয়াস এখন অসমের গৃহহীন ও বিপর্যস্ত মানুষের মুখে এক চিলতে স্বস্তির হাসি ফোটাচ্ছে।