কমনওয়েলথ গেমস শেষ হতেই বড় রহস্য! গ্লাসগো থেকে আচমকাই উধাও পাঁচ বক্সার

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের (Glasgow CWG 2026) পর্দা নেমেছে, কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হতেই ফের একবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পুরোনো বিতর্ক। দেশে ফেরার ঠিক আগের মুহূর্তে গেমস ভিলেজ বা হোটেল থেকে আচমকাই উধাও হয়ে গেছেন পাঁচ জন বক্সার। এর মধ্যে চারজন উগান্ডার এবং একজন পাকিস্তানের নাগরিক। আন্তর্জাতিক মানের যেকোনো বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শেষে অ্যাথলিটদের এইভাবে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়, আর গ্লাসগোতেও সেই চেনা ছবিই ফের একবার সামনে এল। সতীর্থদের সঙ্গে দেশের বিমান না ধরে মাঝপথেই তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন।

পাসপোর্ট ফেলেই উধাও পাক বক্সার
পাকিস্তান বক্সিং ফেডারেশন (Pakistan Boxing Federation) সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়া পাকিস্তানি বক্সারের নাম কুদরত উল্লা। সবথেকে অবাক করার বিষয় হলো, তাঁর পাসপোর্টটি দলের ম্যানেজারের কাছেই জমা ছিল। অর্থাৎ পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি হোটেল থেকে উধাও হয়েছেন।

ফেডারেশনের কর্তাদের দাবি, রাত দু’টো নাগাদ শেষবার তাঁকে হোটেলের নিজের ঘরে দেখা গিয়েছিল।

মঙ্গলবার সকাল ন’টায় নির্ধারিত সময়ে পাকিস্তান গামী দলের সঙ্গে হোটেলের লবিতে জড়ো হওয়ার কথা ছিল সকলের। কিন্তু কর্তারা তাঁর ঘরে গিয়ে দেখেন ঘর সম্পূর্ণ ফাঁকা। চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলেও তাঁর আর কোনো সন্ধান মেলেনি।

অন্ধকারে উগান্ডার টিম ম্যানেজমেন্ট
অন্যদিকে, উগান্ডার শেফ দ্য মিশন গডউইন কায়াংওয়ে এই ঘটনায় সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন। নিখোঁজ চার উগান্ডার বক্সারের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও দু’জন মহিলা রয়েছেন। তাঁদের নাম—ইব্রাহিম কেমিস, নুহু বাট্টে, এমিলি নাকালেমা এবং অ্যাঞ্জেল কতুশাবে। মঙ্গলবারই তাঁদের উগান্ডার বিমান ধরার কথা ছিল।

বিবিসি স্কটল্যান্ডকে কায়াংওয়ে জানিয়েছেন, ঠিক কী কারণে তাঁরা দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন, তা তাঁর জানা নেই। তবে এর আগে তাঁরা টিম ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফিরে আসার কথা জানিয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমানে তাঁদের সকলেরই ফোন বন্ধ রয়েছে। কায়াংওয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, “ওরা নিশ্চিতভাবে ক্যাম্পের নিয়ম ভেঙেছে। অনুমতি ছাড়া কোনো অ্যাথলিটের ক্যাম্প ছাড়ার নিয়ম নেই। তবে তাদের ভিসার মেয়াদ অক্টোবর পর্যন্ত রয়েছে, তাই আমরা আশা করছি তারা শেষ পর্যন্ত ফিরে আসবে।”

তদন্তে নেমেছে স্কটল্যান্ড পুলিশ
অ্যাথলিটদের এই আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসেছে স্কটল্যান্ড পুলিশ। সরকারি আবাসন বা গেমস ভিলেজ থেকে খেলোয়াড়দের উধাও হয়ে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত। স্কটল্যান্ড পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, “বেশ কয়েকজন অ্যাথলিটের নিখোঁজ হওয়ার রিপোর্ট আমাদের কাছে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে হোম অফিসের (Home Office) সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”

পুরনো ট্রেন্ডের পুনরাবৃত্তি
বড় কোনো আন্তর্জাতিক মাল্টি-স্পোর্টস ইভেন্ট শেষ হওয়ার পর অ্যাথলিটদের এই ধরনের পলায়ন বা গা ঢাকা দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২২ সালের বার্মিংহাম গেমসেও দুই বক্সার হোটেল ছেড়ে পালিয়েছিলেন। এমনকি শ্রীলঙ্কার তিন সদস্য—এক কুস্তিগির, এক জুডোকা ও এক কোচও ভিলেজ থেকে উধাও হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের পরও প্রায় ৫০ জনের বেশি অ্যাথলিট বেআইনিভাবে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে গেছিলেন। এমনকি ২০১৪ সালে এই গ্লাসগো শহরেই কমনওয়েলথ গেমসের পর ডজনখানেক অ্যাথলিট উধাও হয়ে গিয়েছিলেন, যাঁদের কেউ কেউ পরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন তো কেউ চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যান। গ্লাসগো ২০২৬-এর ক্ষেত্রেও সেই একই পুরনো চিত্রনাট্য পুনরাবৃত্তি হওয়ায় আয়োজকদের নিরাপত্তা ও কঠোর নিয়মাবলী নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *