বাবা দিয়েছিলেন একটাই মাত্র উপদেশ! জীবন বদলে যাওয়া সেই গল্প শোনালেন কিংবদন্তি গায়ক

নিজের জাদুকরী কণ্ঠ এবং সুরের মূর্ছনায় আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ও স্বনামধন্য গায়ক সোনু নিগম। আজ তাঁর তারকাখ্যাতি তুঙ্গে থাকলেও, এই জায়গায় পৌঁছতে তাঁকে যে কতটা কঠিন পথ পেরিয়ে আসতে হয়েছে এবং কত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই সংগ্রাম ও অজানা অধ্যায় অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সোনু।

কৈশোরের প্রেম বনাম সঙ্গীতের সাধনা: সোনু নিগম জানান, ছোটবেলায় তিনি ভীষণরকম রোম্যান্টিক স্বভাবের ছিলেন। সে যুগে আর পাঁচজন সাধারণ কিশোরের মতো তাঁরও সুপ্ত ইচ্ছে ছিল কলেজে পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে হইচই করে সময় কাটানো, প্রেম করা এবং তারুণ্যের সেই রঙিন মুহূর্তগুলো উপভোগ করা। কিন্তু জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক সিদ্ধান্ত তিনি নিজে হাতেই নিয়েছিলেন। কারণ তাঁর সামনে লক্ষ্য ছিল একটাই—সঙ্গীতজগতে নিজের নাম ও পরিচয় তৈরি করা।

এই পথ বেছে নেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিলেন তাঁর বাবা আগম কুমার নিগম। বাবার সেই ছোট্ট একটি উপদেশই সোনুর পুরো জীবন বদলে দিয়েছিল। তাঁর বাবা তাঁকে বলেছিলেন, “হয় এখন আনন্দ করে পরে সারাজীবন কষ্ট পেতে পারো, অথবা এখন কঠোর পরিশ্রম করে পরে জীবনের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করতে পারো।” বাবার এই একটিমাত্র বাক্য কিশোর সোনুর মনের সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করে দেয়।

শৃঙ্খলার মাধ্যমেই জীবনের ভিত্তি: সোনু উপলব্ধি করেছিলেন যে, জীবনের সব কিছু একসঙ্গে পাওয়া অসম্ভব। তাই কলেজ জীবন, প্রেম ও সম্পর্কের মোহ ত্যাগ করে তিনি দিন-রাত শুধু গান নিয়েই পড়ে থাকেন। একটানা কঠোর রেওয়াজ, স্টেজ শো এবং নিজের কণ্ঠের দক্ষতা নিখুঁত করার দিকেই তাঁর সমস্ত মনোযোগ নিবদ্ধ হয়। সেই সুদিনের আশায় বহু আনন্দের মুহূর্ত হাতছাড়া হলেও আজ অতীতে ফিরে তাকিয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো আক্ষেপ নেই।

সোনুর মতে, সেই কঠিন আত্মনিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার জন্যই তিনি আজকের ‘সোনু নিগম’ হয়ে উঠতে পেরেছেন। দশকের পর দশক ধরে বলিউডে একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দেওয়া এবং বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জনের আসল ভিত্তি তৈরি হয়েছিল সেই ত্যাগের মাধ্যমেই। সোনুর এই জীবনদর্শন কেবল তাঁর ভক্তদেরই নয়, বরং জীবনে বড় স্বপ্ন দেখতে চাওয়া নতুন প্রজন্মের কাছেও এক বিরাট অনুপ্রেরণা ও জীবনের পাঠ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *