নিতিন গড়কীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট ও ডিপফেক ভিডিও! মেটা, এক্স, গুগলকে বড় নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কীকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ‘মানহানিকর’ পোস্ট ও এআই-নির্মিত ডিপফেক ভিডিও নিয়ে একটি বড় নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্ট। কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো সমস্ত মানহানিকর পোস্ট ও ডিপফেক ভিডিও অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি আরিফ ডক্টর। বুধবার আদালত মেটা, এক্স (টুইটার), গুগল-সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে এই কনটেন্ট অপসারণের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেকবার আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়াই যাতে এই ধরনের মানহানিকর কনটেন্ট দ্রুত সরানো যায়, তার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো তৈরির নির্দেশও দিয়েছে।
কী জানাল আদালত?
বিচারপতি আরিফ ডক্টরের একক বেঞ্চ তাদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট ভাষায় জানায় যে, গড়কীকে নিয়ে প্রকাশিত ওই পোস্ট ও ভিডিওগুলি অত্যন্ত অশালীন, আপত্তিকর এবং মানহানিকর। বিচারপতি বলেন,
“আবেদনকারী যে কনটেন্ট সরানোর আবেদন করেছে, সেই কনটেন্টগুলি অত্যন্ত জঘন্য ও আপত্তিকর। এমন কনটেন্ট জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কোনো প্ল্যাটফর্মে থাকা উচিত নয়, যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্করাও তা দেখতে পারে।”
আদালত আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের নতুন কোনো আপত্তিকর পোস্ট বা ডিপফেক ভিডিও সামনে আসে, তবে তা সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে জানানো হবে। এই বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবে। আগামী চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
কেন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নীতিন গড়কী?
সম্প্রতি ই-২০ জ্বালানি বিতর্ক মাথাচাড়া দেওয়ার পর থেকেই নীতিন গড়কীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের অপপ্রচার ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। মূলত তারই প্রতিবাদে এবং আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
আদালতে দায়ের করা মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একাধিক পোস্ট ও ভিডিও ছড়ানো হয়েছে যেখানে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে যে, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল প্রকল্প চালুর নেপথ্যে একমাত্র তিনিই ছিলেন এবং এই প্রকল্প থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। আইনজীবী সন্দীপ এস লাড্ডার মাধ্যমে দায়ের করা ওই আবেদনে গড়কী স্পষ্ট জানান যে, এই পোস্টগুলিতে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, স্বার্থের সংঘাত, সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগের মতো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুরুতর অভিযোগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এই সমস্ত কনটেন্ট সম্পূর্ণ মনগড়া, বিদ্বেষপ্রসূত এবং বিভ্রান্তিকর। এর মধ্যে বিকৃত অডিও-ভিডিও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্মিত ডিপফেক (Deepfake) এবং অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করে তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার সুগভীর চক্রান্ত করা হয়েছে। এই মানহানির জন্য তিনি আইনিভাবে ১১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন। অবশেষে নীতিন গড়কীর সেই আবেদনের ভিত্তিতেই সমস্ত আপত্তিকর পোস্ট ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলার কড়া নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্ট।