নাবালিকাকে অপহরণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ! ঝাড়খণ্ডে গণপিটুনিতে মৃত্যু অভিযুক্তের

ঝাড়খণ্ডের চাতরা (Chatra) জেলায় এক নাবালিকাকে অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ৩২ বছর বয়সি এক যুবকের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্য কাহিনী যেভাবে সামনে এল
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, অভিযুক্ত মহম্মদ এমরোজ (Md Emroz) নামের ওই ব্যক্তি এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে টানা দু’দিন নিজের বাড়িতে তালাবন্ধ করে রেখেছিল। পরিবারের লোকেরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও তার কোনো সন্ধান পাননি।
বাড়ি ফেরা ও ক্ষোভ: গত মঙ্গলবার ভোরে নাবালিকাটি পালিয়ে বা ছাড়া পেয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে এবং পরিজনদের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। সে জানায়, অভিযুক্ত এমরোজ তাকে জোর করে বন্দি করে রেখেছিল এবং খুন করার হুমকিও দিয়েছিল।
গ্রামবাসীদের আক্রমণ: এই লোমহর্ষক কথা শোনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। একটি বিশাল জনতা একত্রিত হয়ে এমরোজের বাড়ি ঘেরাও করে ফেলে এবং চত্বরেই তাকে মারধর শুরু করে।
পুলিশি হস্তক্ষেপ ও হাসপাতালে মৃত্যু
খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। উন্মত্ত জনতার হাত থেকে রক্তাক্ত ও গুরুতর জহম অবস্থায় এমরোজকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন, চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, এই মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত এমরোজের বাবা সুলতান মিয়ানও সামান্য আহত হন।
পুলিশি তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
নিরাপত্তা ও পরীক্ষা: পুলিশ নিগৃহীতা নাবালিকাকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রেখেছে এবং তার বাধ্যতামূলক শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি, এমরোজের পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি নেওয়া হয়েছে।
পূর্বের অপরাধের রেকর্ড: স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, এটি এমরোজের প্রথম অপরাধ নয়। এর আগে ২০২৩ সালের একটি ধর্ষণ মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সে জেলের সাজাও খেটেছিল।
পুলিশের বক্তব্য: পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নাবালিকার সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী কঠোর তদন্ত চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, এই গণপিটুনির ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চালাতে বিশেষ টিম গঠন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।