‘ট্যাক্সের টাকায় ফ্লাইটে দিল্লি গিয়ে মজা!’ শুভেন্দু-রচনাদের বৈঠক দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শ্রীলেখা মিত্র

দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূল ত্যাগী এনসিপিআই (NCPI) ও অন্যান্য দলবদলু সাংসদদের বৈঠকের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। আর সেই ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেই এবার তীব্র ক্ষোভ ও তোপ দাগলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সাধারণ মানুষের কষ্টে অর্জিত করের টাকায় জনপ্রতিনিধিদের বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা এবং তাঁদের অবাধ দলবদল নিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে এক বিষোদ্গার ভরা পোস্ট করেছেন তিনি।
‘ট্যাক্সের টাকায় আরামে দিল্লি যাত্রা!’— শ্রীলেখার চাঁচাছোলা আক্রমণ
শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লির বৈঠকে উপস্থিত সাংসদদের ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী লেখেন:
“কী সুইট না? এদের মতো হলে আমিও কত প্রিভিলেজ পেতাম বলুন? এত এফআইআর (FIR), মাথা খারাপ হয়ে গেছে শোনা, স্ল্যাট শেমড্, বডি শেমড্ হওয়া… এত ঝামেলাই হতো না। দিব্যি আপনাদের খাটুনির ট্যাক্সের টাকায় আরামে ফ্লাইটে দিল্লি গিয়ে ‘পার্লামেন্ট পার্লামেন্ট’ খেলতাম! আমাদের মতো (খুঁজে পাওয়া গেলে) মানুষগুলো চিরকালের গাধাই থেকে গেলাম… বিলেটেড ফ্রেন্ডশিপ ডে। বাই দ্য ওয়ে, ইন্ডাস্ট্রির লোকজন কিন্তু এ ব্যাপারে ‘স্পিক টি নট’… পুরোটাই মিষ্টির চচ্চড়ি!”
শ্রীলেখা স্পষ্ট অভিযোগ তুলেছেন যে, সাধারণ মানুষ যখন নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমে কটূক্তি, বডি শেইমিং বা আইনি হেনস্থার মুখে পড়েন, তখন এই রাজনীতিবিদরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। পাশাপাশি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই ঘটনায় টলিউড ইন্ডাস্ট্রির একাংশের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
দিল্লির বঙ্গভবনে ঠিক কী ঘটেছিল?
দিল্লির বঙ্গভবনে আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে শুধুমাত্র এনসিপিআই-এর সাংসদরা নন, বরং তৃণমূল ছেড়ে সম্প্রতি গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানো রাজ্যসভার ৩ জন সাংসদও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সুখেন্দু শেখর রায়ের মন্তব্য: বৈঠক শেষে তৃণমূল ত্যাগী বর্ষীয়ান নেতা ও সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় এটিকে নিছকই একটি ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বা ‘কার্টসি কল’ বলে দাবি করলেও, অন্দরের আলোচনা নিয়ে বিশদে মুখ খুলতে চাননি।
প্রকাশ চিক বরাইকের বক্তব্য: বৈঠকে উপস্থিত অপর সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক জানান যে, মূলত এলাকার এবং রাজ্যের উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ নিয়েই তাঁদের মধ্যে এই আলোচনা হয়েছে।
আইনি ঝামেলায় শ্রীলেখা নিজেও
সাম্প্রতিককালে নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে বেশ চর্চায় রয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিতর্কিত পোস্টার হাতে নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সমর্থনে বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকে আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েই এই বিতর্কে জড়ান তিনি। যদিও নিজের সাফাইতে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি সেদিন চশমার বদলে সানগ্লাস পরে যাওয়ার কারণে দেখতে পাননি এবং ভুলবশত ওই পোস্টারটি হাতে তুলে নিয়েছিলেন।