‘আজ কাউকে গুলি মারব!’ ১০০ টাকা ধার নিয়ে প্রাক্তন সেনাকর্মী যা করল, শুনলে শিউরে উঠবেন

পঞ্জাবের মোহালিতে এক প্রাক্তন সরপঞ্চের স্বামীকে গুলি করে খুনের চেষ্টার ঘটনায় এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত অভিযুক্ত প্রাক্তন সেনা কর্মী মহিন্দর সিং ওরফে মিন্ডা অপরাধ সংঘটিত করার ঠিক আগে ভুক্তভোগী রজনীশ কুমারের কাছ থেকে ১০০ টাকা ধার নিয়েছিল। মদ্যপান করার কথা বলেই সে টাকা চেয়েছিল এবং টাকা নেওয়ার সময় অত্যন্ত অদ্ভুত ও ঠাণ্ডা মাথায় সে বলে উঠেছিল, “আজ কাউকে গুলি মারব।”

ঘটনার আকস্মিকতা ও স্থানীয়দের সাহসিকতা

প্রাথমিকভাবে রজনীশ ভেবেছিলেন যে অভিযুক্ত নিছক ঠাট্টা বা রসিকতা করছে। কিন্তু কিছুক্ষণ বাদেই মদ্যপ অবস্থায় ফিরে এসে সে দোকানের বাইরে বসা রজনীশের ওপর নির্বিচারে ফায়ারং শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সেদিন ব্যস্ত বাজারে বহু সাধারণ মানুষ ও ছোট ছোট শিশু খেলা করছিল। সিয়ালবার বাসিন্দা বিজয় কুমার জানিয়েছেন, আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তবে স্থানীয় লোকজন অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে হামলাকারীর হাত থেকে রাইফেল কেড়ে নেওয়ায় একটি বড়সড় ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ব্যস্ত বাজারে চালানো ওই হামলায়—

  • একটি গুলি রজনীশের পেটে লাগে।

  • দ্বিতীয়টি দেওয়ালে আঘাত হানে।

  • এবং তৃতীয় গুলিটি শূন্যে ছোঁড়া হয়।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় দোকানদার শিব কুমার দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় রজনীশকে চণ্ডীগড়ের পিজিআই (PGI) হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তদন্ত ও অভিযুক্তের ব্যাকগ্রাউন্ড

ঘটনার তদন্তকারী আধিকারিক পরমিন্দর সিং জানিয়েছেন, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মহিন্দর সিংকে গ্রেপ্তার করে। তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আহত রজনীশের শারীরিক অবস্থা এখনও বেশ আশঙ্কাজনক থাকায় তাঁকে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আনফিট ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং অস্ত্র আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে ধৃতকে এক দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত মহিন্দর সিং একজন প্রাক্তন সৈনিক এবং অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান। তাঁর দুই কন্যা বিদেশে কর্মরত এবং পুত্র মোহালির এক বেসরকারি সংস্থায় যুক্ত। তাঁর কাছে থাকা অস্ত্রটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছিল। এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন উঠেছে যে, একজন মদ্যপ ও অস্থির মানসিকতার ব্যক্তিকে কীভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসন বর্তমানে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং এই আকস্মিক হামলার নেপথ্যে মাদকাসক্তি ছাড়া অন্য কোনো পুরনো শত্রুতা বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ রয়েছে কি না, তা নিয়ে গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *