‘৩০ বছরের দুর্গ মাত্র ৩০ দিনেই ধূলিসাৎ!’ বাঁকিপুরে ঐতিহাসিক জয়ের পর হুংকার প্রশান্ত কিশোরের

বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বিশাল ও ঐতিহাসিক উলটপুরাণ! এতদিন ধরে যে বাঁকিপুর কেন্দ্রটি বিজেপির সবচেয়ে সুরক্ষিত ‘স্ট্রংহোল্ড’ বা দুর্গ বলে পরিচিত ছিল, সেই আসনেই বাজিমাত করলেন ভোটকুশলী থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) ওরফে পিকে। তাঁর নবগঠিত দল ‘জনসুরজ পার্টি’-র ব্যানারে আসা এই জয়কে এই মুহূর্তে বিহার রাজনীতির সবচেয়ে বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কীভাবে এল এই জয়?

বিজেপির এই শক্ত ঘাঁটিতে শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছিল। তবে দিন যত গড়িয়েছে, ততই বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারের চেয়ে ভোটের ব্যবধান বাড়াতে থাকেন পিকে। শেষ পর্যন্ত সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেন প্রশান্ত কিশোর।

জয় নিশ্চিত হওয়ার পর কী বললেন প্রশান্ত কিশোর?

জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাসী পিকে স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, “যে দুর্গ ৩০ বছরে ভাঙেনি, তা মাত্র ৩০ দিনেই ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।” বিহারের জনমানসের পরিবর্তন নিয়ে পিকের সংযোজন, এই রায় প্রমাণ করে যে রাজ্যের মানুষ এখন গতানুগতিক রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসছেন। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা— “এই পতন প্রমাণ করে যে বিহারের মানুষ এখন চায়, সরকার যেন চার-পাঁচ কেজি বিনামূল্যে রেশন ও জাতপাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করে।”

বর্তমান সরকার ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে কড়া বার্তা

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পদক্ষেপ স্পষ্ট করে পিকে মনে করিয়ে দেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি এবং অমিত শাহ বিহারের উন্নয়ন, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিবাসন বন্ধ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই মৌলিক ইস্যুগুলিকেই তাঁরা সামনে রেখে লড়াই করেছেন।

এদিন বর্তমান শাসক শিবিরকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “যদি সরকার সাধারণ মানুষের এই মৌলিক উদ্বেগগুলোকে উপেক্ষা করে, তবে ভবিষ্যতেও তাদের এমন শোচনীয় নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য শুধু বিধায়ক হওয়া নয়, বিহারের সার্বিক উন্নয়ন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *