বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গে ঐতিহাসিক ধাক্কা! ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে প্রশান্ত কিশোরের ‘মহাবিজয়’

ভোটকুশলী হিসেবে দেশজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে অভাবনীয় সাফল্য ও খ্যাতি অর্জনের পর অবশেষে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির ময়দানে নেমে এক অবিশ্বাস্য চমক দিলেন প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। এতদিন পর্দার আড়ালে থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে জয়ী করার ছক কষলেও, নিজের দল ‘জন সুরাজ পার্টি’ (Jan Suraaj Party) গঠন করে প্রথমবার ভোটে লড়েই এক ঐতিহাসিক বিজয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। বিজেপির দীর্ঘদিনের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি তথা প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের ছেড়ে যাওয়া বিহারের হাইপ্রোফাইল বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পিকে।

বাঁকিপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিজেপির সাম্রাজ্য পতন

১৯৯৫ সাল থেকে দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই আসনটি (তকালীন পাটনা পশ্চিম সহ) একপ্রকার বিজেপির একচ্ছত্র দখলে ছিল। ২০১০ সাল থেকে টানা চারবার এই কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে এসেছিলেন নিতিন নবীন। পরবর্তীতে তাঁকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও দায়িত্ব দেওয়ার পর এই আসনে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে। নিশ্চিত জেতা এই আসন ধরে রাখতে বিজেপি সর্বশক্তি প্রয়োগ করলেও দলের অন্দরের ক্ষোভ এবং স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ তাদের বড়সড় বিপাকে ফেলে দেয়।

যে অঙ্কে বাজিমাত করলেন প্রশান্ত কিশোর

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশল ও নিখুঁত সমীকরণের ওপর ভিত্তি করেই এই উপনির্বাচনে গেরুয়া দুর্গ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন পিকে:

  • বিকল্প রাজনীতির উত্থান: রাজ্যের প্রথাগত দলগুলির দ্বিমুখী রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে বাঁকিপুরের শহুরে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন পর তৃতীয় এক শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে ‘জন সুরাজ’-এর ওপর ভরসা রেখেছেন।

  • তৃণমূল স্তরের জনসংযোগ: প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলির চেনা বৃত্তের বাইরে গিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে বুথ স্তরে সংগঠনের শিকড় মজবুত করার কৌশল দারুণভাবে কাজে লেগেছে।

  • বিজেপির অন্দরের অসন্তোষকে কাজে লাগানো: বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে দলের অন্দরে যে ক্ষোভ ও অন্তর্কোন্দল তৈরি হয়েছিল, তাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নিজেদের অনুকূলে ব্যবহার করেছে জনসূরয শিবির।

নির্বাচন কমিশনের ট্রেন্ড ও গণনার হিসাব অনুযায়ী, বাঁকিপুরে পিকের এই দুর্দান্ত ফলাফল শুধুমাত্র একটি সাধারণ উপনির্বাচনের জয় নয়; বরং বিহারের রাজনীতিতে এক নতুন রাজনৈতিক শক্তির আত্মপ্রকাশের স্পষ্ট ইঙ্গিত, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে আগামীর জাতীয় রাজনীতিতেও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *