‘বিদেশি বধূ’র কাণ্ডে আবেগাপ্লুত শ্বশুর-শাশুড়ি! ভিনসংস্কৃতির দুই তরুণ-তরুণীর প্রেমের গল্প মন জয় করল নেটিজেনদের

ভালোবাসা যে ভাষা, দেশ কিংবা সংস্কৃতির কোনো ভেদাভেদ মানে না, তা আরও একবার প্রমাণ করল এই সুন্দর প্রেমের গল্পটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে ভাইরাল হওয়া এই গল্পটি মন জয় করে নিচ্ছে লাখ লাখ মানুষের। ভিন্ন সংস্কৃতির হলেও ইতালির এক তরুণী এবং ভারতের এক তরুণ যেভাবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে নিজেদের সম্পর্ককে টিকিয়ে রেখেছেন এবং পরিণয়ে রূপ দিয়েছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক।

লন্ডনের বারে প্রথম দেখা
ভাইরাল হওয়া পোস্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালে লন্ডনের একটি বারে তাঁদের প্রথম দেখা হয়। এর আগে তাঁরা একে অপরকে চিনতেন না। দু’জনেই নিজেদের বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু বারে চোখাচোখি হতেই শুরু হয় কথোপকথন। ধীরে ধীরে ফোন নম্বর বিনিময় এবং নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ তাঁদের সম্পর্ককে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বুঝতে পারেন যে, একে অপরের সঙ্গেই তাঁরা ভবিষ্যৎ কাটাতে চান।

পরিবারের রক্ষণশীলতা ও ভালোবাসার জয়
তবে তাঁদের এই প্রেমের পথ এতটা মসৃণ ছিল না। ভারতীয় ওই তরুণ রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান হওয়ায় শুরুতে বাড়ির লোক এই সম্পর্কের কথা জানতেন না। যখন বাড়িতে বিয়ের আলোচনা শুরু হয়, তখন তিনি সাহস করে বাবা-মাকে জানান যে তিনি এক ইতালীয় তরুণীকে ভালোবাসেন। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা অবাক ও কিছুটা উদ্বিগ্ন হলেও, যুবকের বোনদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে বরফ গলতে শুরু করে।

এরপর ওই ইতালীয় তরুণী ভারতে আসেন। এখানকার রীতিনীতি পুরোপুরি না বুঝলেও, ভারতীয় পরিবারের আন্তরিক ভালোবাসা ও আপ্যায়ন তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। একইভাবে ভারতীয় যুবকটিও ইতালি যান, যেখানে তরুণীর পরিবার তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। দুই পরিবারই ধীরে ধীরে একে অপরের সংস্কৃতিকে আপন করে নেয়।

ভারতে হিন্দু মতে বিয়ে ও আবেগঘন গৃহপ্রবেশ
পোস্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তাঁরা ভারতে এসে সম্পূর্ণ হিন্দু রীতি-নীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। একই বছর লন্ডনেও একটি বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যাতে দুই পরিবারের সবাই এই আনন্দের অংশীদার হতে পারেন। বিয়ের পর যখন তাঁরা নিজেদের নতুন বাড়িতে প্রবেশ করেন, তখন ভারতীয় পরিবারের ঐতিহ্যবাহী ‘গৃহপ্রবেশ’ রীতি নিখুঁতভাবে পালন করে ইতালীয় পুত্রবধূ তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িকে আবেগাপ্লুত করে তোলেন।

বর্তমানে তাঁরা দু’জনেই একে অপরের সংস্কৃতিকে সমানভাবে সম্মান করেন। ভারতীয় যুবকটি স্ত্রীর সঙ্গে বড়দিন (ক্রিসমাস) ও ইস্টারের সময় গির্জায় যান। অন্যদিকে, ইতালীয় তরুণীও আনন্দের সঙ্গে ভারতীয় সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতি শিখে তা পালন করছেন।

(উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘Humans of Bombay’-এর শেয়ার করা এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গল্পটি উঠে এসেছে। এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *