ই-২০ পেট্রোল নিয়ে সরাসরি মোদীকে চ্যালেঞ্জ কেজরওয়ালের! মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে বিশাল পদযাত্রা

ই-২০ পেট্রোল (E20 Petrol) এবং ইথানল মিশ্রণ নীতি নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও শাণালেন আম আদমি পার্টির (AAP) জাতীয় আহ্বায়ক তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এই নীতি সাধারণ মানুষের গাড়ির ক্ষতি করছে দাবি করে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে নেমেছেন তিনি। ই-২০ এর জেরে সৃষ্ট ক্ষোভ ও জনগণের দাবিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সাধারণ মানুষের স্বাক্ষরিত পিটিশনপত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা করার ঘোষণা দিয়েছেন কেজরিওয়াল।

সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেজরিওয়াল জানান, মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ই-২০ নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অনলাইন পিটিশনে ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ২ শ’ ৩৮ জন দেশবাসী স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া এক মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে চিঠি দিলেও এখনও কোনো উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরাসরি প্রশ্ন তুলে আপ সুপ্রিমো বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে কি জোর করে দেশের ওপর ইথানল চাপিয়ে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী? আগামী পাঁচ বছরে কি সত্যিই ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইথানল কেনা হবে?

জনগণের ওপর জোর করে ইথানল চাপানো হচ্ছে: কেজরিওয়াল
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অভিযোগ, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের কারণে গাড়িগুলির মাইলেজ মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে এবং ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ছে। দেশবাসী এই বিষয়ে চরম উদ্বিগ্ন হওয়া সত্ত্বেও সরকার কোনো সদুত্তর না দিয়ে জোর করে এটি চাপিয়ে দিচ্ছে। এর পেছনে সরকারের কোনো গভীর গোপন উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের চাপে নতি স্বীকার করে আমেরিকার অতিরিক্ত ইথানল ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে ভারতের ওপর প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ইথানল আমদানি চাপানো হতে পারে, যা প্রকারান্তরে দেশের সাধারণ মানুষের গাড়ি ও অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

টাউন হলের সাফল্য ও ভয় দেখানোর অভিযোগ
সম্প্রতি ই-২০ নিয়ে আয়োজিত টাউন হল সভার ব্যাপক সাফল্যের কথা তুলে ধরে কেজরিওয়াল জানান, হলের ভেতরে-বাইরে মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং অনলাইনে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষের সরাসরি এই অনুষ্ঠান দেখা এক ধরণের বিশ্ব রেকর্ড। এটিই প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ ই-২০ নীতি নিয়ে কতটা ক্ষুব্ধ।

তবে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। কেজরিওয়ালের দাবি, কোনো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ইনফ্লুয়েন্সার বা ভুক্তভোগী নাগরিক ই-২০ এর বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল করা হচ্ছে এবং এফআইআর দায়ের করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা
আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় দলের সদর দফতর থেকে ১০০ জন প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে রওনা হবেন কেজরিওয়াল। সাধারণ মানুষের সই করা পিটিশনটি সরাসরি মোদীর হাতে তুলে দিয়ে ইথানল নীতির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। কেজরিওয়াল আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী এবার সময় বের করে তাদের উদ্বেগ শুনবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *