বাচ্চাদেরও হচ্ছে কিডনিতে পাথর! এই ৭টি লক্ষণ দেখা দিলেই সাবধান হোন, অজান্তেই বড় বিপদ ডেকে আনছেন না তো?

বর্তমান সময়ে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক, উভয়ই কিডনিতে পাথর বা পাথরজনিত সমস্যার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জন্মগত ত্রুটি, বংশগত কারণ, অনিয়মিত জীবনযাপন, ভুল খাদ্যাভ্যাস, ভিটামিনের ঘাটতি এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রাপ্তবয়স্করা ব্যথার কথা বলতে পারলেও, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা চিহ্নিত করা বেশ কঠিন। কারণ, ছোট শিশুরা বেশিরভাগ সময়ই ব্যথার সঠিক অবস্থান বা কারণ মুখে প্রকাশ করতে পারে না। ফলে অনেক সময়ই রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়ে যায়।
শিশুদের কিডনিতে পাথরের প্রধান লক্ষণসমূহ
ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মতে, শিশুদের শরীরে এই সমস্যা দানা বাঁধলে কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
পিঠ, তলপেট বা কোমরের কাছে তীব্র ব্যথা।
প্রস্রাবে গোলাপি, লাল বা বাদামি রঙের রক্ত থাকা (যাকে হেমাচুরিয়া বলা হয়)।
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া বা প্রস্রাবের সময় তীব্র যন্ত্রণা।
প্রস্রাব করতে না পারা বা খুব সামান্য পরিমাণে প্রস্রাব হওয়া।
ঘোলাটে বা তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব।
অতিরিক্ত খিটখিটে মেজাজ (বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে)।
ব্যথার পাশাপাশি শিশুটির বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, জ্বর বা ঠান্ডা লাগার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই লক্ষণগুলির কোনো একটি দেখা দিলেই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মারাত্মক শারীরিক জটিলতা
‘মেডলাইন প্লাস’ (Medline Plus)-এর তথ্য অনুযায়ী, কিডনিতে পাথর থাকলে তা মূত্রনালি বা মূত্রপথে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে প্রস্রাব উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়ে ‘হাইড্রোনফ্রোসিস’ বা কিডনি ফুলে যাওয়ার মতো মারাত্মক অবস্থা তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া মূত্রথলিতে দীর্ঘদিন প্রস্রাব জমে থাকলে ‘সিস্টাইটিস’ (দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ) এবং মূত্রনালি সরু হয়ে ফিস্টুলা (fistula) তৈরির মতো ঝুঁকিও থাকে।
শিশুদের কিডনিতে পাথর হওয়ার নেপথ্যের কারণগুলি
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত বেশ কিছু কারণে শিশুদের এই সমস্যা হতে পারে:
জিনগত বা বংশগত কারণ: কিছু শিশুর ক্ষেত্রে জিনগত কারণে প্রস্রাবে সিস্টিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পাথর তৈরি করতে পারে।
প্রস্রাব আটকে রাখার বদভ্যাস: দীর্ঘক্ষণ টিভি, মোবাইল বা গেম খেলার নেশায় অনেকে প্রস্রাব আটকে রাখে, যা থেকে সংক্রমণ ও লবণ জমার প্রবণতা বাড়ে।
জলের ঘাটতি: খেলাধুলায় মগ্ন থেকে শিশুরা জল খাওয়ার কথা ভুলে যায়। ফলে শরীরে জলের ঘাটতিতে প্রস্রাব ঘন হয়ে পাথর তৈরির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি: অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন ও জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ফলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গিয়ে পাথর সৃষ্টি করতে পারে।
স্থূলতা ও অন্যান্য সমস্যা: অতিরিক্ত ওজন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ায় এবং প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া জন্মগত মূত্রনালির সংকোচন বা মেরুদণ্ড-সংক্রান্ত সমস্যাও (যেমন-স্পাইনা বাইফিডা) এর অন্যতম কারণ।
ভিটামিন ‘এ’-র ঘাটতি: এর ফলে মূত্রথলির ভেতরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্জ্য পদার্থ জমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তা পাথরে রূপ নেয়।
প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
‘হার্ভার্ড হেলথ জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও স্বাস্থ্যকর তরল খাওয়ানো উচিত। ঠান্ডা পানীয়, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পাশাপাশি যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের ক্ষেত্রে লেটুস পাতা, বাঁধাকপি ও টমেটোর মতো খাবার পরিমিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।