বিয়ের গয়না আত্মসাৎ থেকে মারধর! হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রীর অভিযোগে কাঁটল শ্বশুরবাড়ি

ব্যক্তিগত জীবনের মারাত্মক ঝড়ের কারণে এই মুহূর্তে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন হিন্দি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ তথা অভিনেত্রী অদিতি শর্মা। স্বামী অভিনীত বিদ্যানন্দ কৌশিক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যত্রতত্র গালিগালাজ এবং বিয়ের বহুমূল্য গয়না আত্মসাতের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মুম্বইয়ের গোরেগাঁও থানায় একটি এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঠিক কী অভিযোগ এনেছেন অভিনেত্রী?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩১ জুলাই অদিতির করা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর স্বামী অভিনীত বিদ্যানন্দ কৌশিক, শাশুড়ি উর্মিলা কৌশিক এবং ননদ কীর্তি কৌশিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের পক্ষের কেউও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানাননি।
পুলিশে জমা দেওয়া অভিযোগে অদিতি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন তাঁদের সম্পর্কের ওঠাপড়ার কথা:
পরিচয় থেকে পরিণয়: ২০২১ সালের জুন মাসে একটি অনলাইন অভিনয় ওয়ার্কশপে অভিনীতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁরা লিভ-ইন করা শুরু করেন এবং একই বছরের ১২ নভেম্বর দুই পরিবারের সম্মতিতে আইনি বা সামাজিক মতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের পরেই বদল: অভিনেত্রীর অভিযোগ, বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই স্বামীর আচরণে আমূল পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নিত্যদিন অশান্তি লেগেই থাকত। তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে নানা আপত্তি তোলা, লাগাতার অপমানজনক মন্তব্য করা এবং উল্টে সংসারের খরচ বহনের জন্য তাঁর কাছ থেকেই নিয়মিত টাকা আদায় করার অভিযোগ তুলেছেন অদিতি।
চরিত্রহীনতার সন্দেহ ও নজরদারি: অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি কফি খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে তীব্র বচসা বাঁধে। তারপর থেকেই স্বামী তাঁর চরিত্র নিয়ে ভিত্তিহীন সন্দেহ করতে শুরু করেন। অদিতির অভিযোগ, তাঁর মোবাইল ফোন নিয়মিত চেক করা হতো, তাঁর বিরুদ্ধে পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হতো এবং একসময় তাঁকে বাধ্য করা হয় আলাদা ঘরে থাকতে।
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও গয়না আত্মসাৎ: অভিনেত্রীর আরও বড় অভিযোগ, তাঁকে নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে বা যোগাযোগ রাখতেও বাধা দেওয়া হতো। শুধু তাই নয়, বিয়ের সময় পাওয়া সোনার চেন, আংটি, হিরের আংটি, মঙ্গলসূত্র ও সোনার বালার মতো দামি গয়নাগুলো শাশুড়ি নিজের জিম্মায় রেখে দেন। বারবার ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তা আর তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়নি।
মীমাংসার চেষ্টা ও পুলিশের পদক্ষেপ
অদিতি পুলিশকে জানিয়েছেন, পারিবারিকভাবে এই জটিল সমস্যা মিটিয়ে ফেলার একাধিক চেষ্টা করা হলেও তাঁর শাশুড়ি ও ননদ সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করার বদলে স্বামীর পক্ষই নিয়েছেন এবং তাঁর ওপর ক্রমাগত মানসিক চাপ সৃষ্টি করে গেছেন।
অভিনেত্রীর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে মুম্বই পুলিশ। শুরু হয়েছে আইনি তদন্ত। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, এই কঠিন পরিস্থিতিতে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।