সকালের প্রাতঃভ্রমণে এসেই ঝোড়ো মেজাজে দিলীপ ঘোষ! মমতার লোগো থেকে বেনোজল— একহাতে সব কটাক্ষ

সোমবারের সকালে চিরচেনা ও মেজাজেই ধরা দিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ। নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণ সেরে ডাবের জলে চুমুক দিতে দিতেই রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় নানা ইস্যু নিয়ে এক এক করে একের পর এক ঝাঁঝালো মন্তব্য ছুড়ে দিলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বিজেপির অন্দরে বেনোজল প্রবেশ, এমনকি জয় গোস্বামী ও তসলিমা নাসরিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য— কোনোটি নিয়েই রাখঢাক না করে একেবারে ‘টকাস টকাস’ কায়দায় উত্তর দিলেন দিলীপবাবু।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক দিলীপ ঘোষের প্রাতঃভ্রমণ পর্বের সেই আলোচিত মন্তব্যগুলির ঝাঁপি:
১. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোগো মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ
রাজ্য রাজনীতিতে লোগো সংক্রান্ত চর্চা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, “পদ্মফুলটা রাখেননি তো আবার? এসব জোড়াফুল-গোটাফুল চলতে থাকবে। ফুল নিয়ে আর কী করবে? পার্টি অফিস, অ্যাকাউন্ট, বিধায়ক— কিচ্ছু নেই। এখন শুধু অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চলছে।”
২. মালদহের টাকার পাহাড় ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে
মালদহে নগদ টাকার পাহাড় উদ্ধার প্রসঙ্গে দিলীপবাবুর মন্তব্য, “বহু ব্যবসায়ী এমন রয়েছে যাঁদের কাছ থেকে নেতারা টাকা তুলে রেখেছে। সেই সোর্স বা উৎস খুঁজে বের করা দরকার। পুলিশ তো সবটাই জানে, ধীরে ধীরে সব বেরোবে। সব ডিপার্টমেন্টে সেই ফান্ড নেওয়া হতো যা মূলত লুঠ করা যায়। পঞ্চায়েত দফতরেও এই কাজ হয়েছে।”
৩. বিজেপিতে বেনোজল ও শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য প্রসঙ্গে
দলের অন্দরে বেনোজল ঢোকা নিয়ে রাজ্য নেতা শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আশেপাশে বহু লোক আছে যারা কোটি কোটি টাকা নিয়ে বিজেপিতে ঢোকার জন্য একেবারে রেডি হয়ে বসে আছে। টাকা সবারই ভালো লাগে! কিন্তু এখনও পার্টি এদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। আমরাও খুব ভালোভাবেই জানি কে কার সঙ্গে কেন ঘুরছে। পার্টিতে এই সমস্ত লোকের কোনো এন্ট্রি হবে না, পার্টি এ বিষয়ে ভীষণ সতর্ক আছে।”
৪. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাওয়ার মামলা প্রসঙ্গে
তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাওয়া সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা নিয়ে দিলীপ ঘোষের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ, “এখানে তো আর কোনো কাজ নেই! কী বা করবেন, ঘুরে আসুন বিদেশ থেকে। রাহুল গান্ধীও তো মাঝে মাঝে হঠাৎ ফেরার হয়ে যান। ঠিক সেই কালচারেই এখন যাওয়া হচ্ছে।”
৫. জয় গোস্বামীর ‘থ্রেট কালচার’ মন্তব্য প্রসঙ্গে
বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামীর তৃণমূল আমলে থ্রেট কালচারের শিকার হওয়ার দাবি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এখন কেন মনে হচ্ছে? তখন কেন এই কথা বলেননি? কেন তখন মুখ খোলেননি? আরজি করের আন্দোলনেও তো ওরা গিয়েছিলেন! ওটা তো কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না, সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এখন কি সেই উত্তর দেবেন না?”
৬. প্রশ্নফাঁস ও ঝাড়খণ্ড প্রসঙ্গ
পঞ্জাব, কর্ণাটক বা ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে তিনি বলেন, “পঞ্জাবেও তো প্রশ্নফাঁস হয়েছে, সেখানে আপ (AAP) পার্টির সরকার। কর্ণাটকেও বারবার হয়েছে, সেখানে কংগ্রেসের সরকার। আর ঝাড়খণ্ডে রয়েছে জোট সরকার। তখন তো কোনো প্রশ্ন ওঠে না, কেবল বাচ্চা ছেলেদের রাস্তায় নামানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তো তাঁদের মাপ করে দিয়েছেন যারা বদমাইশি করেছে। তবে যারা এই নিয়ে নাটক করেছে এবং অন্যদের নামিয়েছে, তাদের আসল খবরাখবর এবার করতে হবে।”
৭. দক্ষিণ দিনাজপুরে মাদক ও পাচারচক্রের টাকা উদ্ধার নিয়ে
মাদক কাণ্ডে বিপুল টাকা উদ্ধার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক দাবি, “শুধু মাদক কেন, সবেতেই—গরু, পাথর, বালি সব জায়গায় সরকারি টাকা লুঠ হয়েছে। পুলিশের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল, কিন্তু ভয়ে বা চাপে তারা কিছু করতে পারেনি। তবে এবার সেই সবের জট খুলতে শুরু করেছে।”
৮. তসলিমা নাসরিনের মাদ্রাসা তুলে দেওয়া সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে
প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, “উনি তো আগেও এসব কথা বলেছেন। এখন তো উনি ইউসিসি (UCC)-কে সমর্থন করছেন এবং বিজেপির সঙ্গে একমত হয়ে নিজের মত প্রকাশ করছেন। রাজ্যের সাধারণ মানুষও তো একমত হয়েছেন, উনিও সেই সুরেই কথা বলেছেন।” সালের প্রথম দিকেই দিলীপ ঘোষের এই চনমনে মেজাজ ও একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য যে ফের রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।