‘জেনারেশন গটার’ মন্তব্যের পর ইউটার্ন কঙ্গনা রানাওয়াতের! বন্ধুত্ব দিবসে জেন-জি তরুণীদের উদ্দেশ্যে কী বললেন অভিনেত্রী?

সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে নিজের এক বিস্ফোরক বক্তব্যের জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut)। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবসের বিশেষ দিনে ‘জেন-জি’ (Gen-Z) বা আজকের আধুনিক প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে এক সম্পূর্ণ অন্যসুরের বার্তা প্রকাশ করে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন তিনি।

কী ছিল সেই বিতর্ক?
পুরো ঘটনার সূত্রপাত গত জুলাই মাসে। দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট আন্দোলনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন কঙ্গনা। সেখানে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের একাংশের ভাষা ও আচরণের ধরণ তাঁর কাছে অত্যন্ত কদর্য ঠেকেছে। বিশেষ করে আন্দোলনকারী তরুণীদের নিশানা করে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, তারা ভারতীয় ঐতিহ্য ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ ভুলে ভুল পথে চালিত হচ্ছেন। আর এই সমস্ত ক্ষোভ প্রকাশ করতেই তিনি অত্যন্ত বিতর্কিত ‘জেনারেশন গটার’ (Generation Gutter) শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছিলেন।

কঙ্গনার এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে নেটপাড়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশিষ্ট অভিনেতা সোনু সুদ সহ বিনোদন জগতের বহু ব্যক্তিত্ব ও নেটিজেনরা কঙ্গনার এই কথার তীব্র প্রতিবাদ জানান। সোনু সুদ স্পষ্ট ভাষায় মনে করিয়ে দেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্মই সমাজ ও দেশ গড়ে তোলে, তাই তাদের এভাবে অপমান করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

জিম থেকে বন্ধুত্বের বার্তা!
চারদিকে এই সমালোচনার ঝড় ও উত্তাল আলোচনার মাঝেই আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবসে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সম্পূর্ণ একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে পোস্ট করেন কঙ্গনা রানাওয়াত। তিনি জানান, সম্প্রতি জিমে যাওয়ার সময় আকস্মিকভাবেই দু’জন তরুণীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয় এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের দীর্ঘ কথা হয়।

কঙ্গনার বিবরণ অনুযায়ী, ওই দুই তরুণী তাঁকে জানান যে— আজকের এই আধুনিক ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং নিজেদের শর্তে স্বাধীনভাবে বাঁচার সুযোগ ও স্বাধীনতাকেই তাঁরা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন।

তরুণদের উদ্দেশ্যে কঙ্গনার নতুন বার্তা
ওই তরুণীদের কথার জবাবে কঙ্গনা নাকি তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নিজের পছন্দমতো স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করার অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন ছিল, সেই স্বাধীনতার হাত ধরে নিজের ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থাকাও সমানভাবে জরুরি। নিজের চেনা ভঙ্গিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যতক্ষণ না কেউ অন্য কারও কোনো ক্ষতি করছে বা দেশের আইন ভাঙছে, ততক্ষণ স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করায় বা নিজস্ব পছন্দ বেছে নেওয়ায় কোনো অনিল বা অন্যায় নেই।

পোস্টের একদম শেষ পর্যায়ে জেন-জি প্রজন্মকে বন্ধুত্বের শুভেচ্ছা জানিয়ে কঙ্গনা লেখেন, “আমার সব জেন-জি বন্ধুদের শুভ বন্ধুত্ব দিবস।” কিছুদিন আগে তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে কঠোর মন্তব্য করা এবং ঠিক তার কিছুদিনের মধ্যেই জিম সূত্রে পাওয়া অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া—কঙ্গনার এই অবস্থান বদল ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এখন ডিজিটাল মাধ্যমে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চর্চা দেখা যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *