‘পশ্চিমবঙ্গকে বারুদের স্তূপে বসিয়ে দিয়েছে তৃণমূল!’ বর্ধমানের জইশ জঙ্গি কাণ্ড নিয়ে সরাসরি নিশানা শমীক ভট্টাচার্যের

বর্ধমান থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে হামিম মণ্ডল গ্রেফতার হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র দড়িটানাটানি। এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে এবার বিগত বাম ও বর্তমান তৃণমূল—উভয় সরকারকেই তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

বিগত দুই সরকারকে কাঠগড়ায় শমীকের আক্রমণ
বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ উপনগরী থেকে এসটিএফ (STF)-এর হাতে জইশ-ই-মহম্মদের যোগ থাকার অভিযোগে হামিম মণ্ডল ও তাঁর বান্ধবী গ্রেফতারে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক দাবি:

‘সেফ প্যাসেজ’ থেকে ‘সেফ হোম’: সিপিআইএমের আমলে বাংলা ছিল সন্ত্রাসবাদীদের জন্য শুধুমাত্র ‘Safe passage’ বা যাতায়াতের নিরাপদ পথ, আর সেটাই বর্তমান তৃণমূল সরকারের আমলে পরিণত হয়েছে ‘safe home’ বা স্থায়ী আশ্রয়ে।

মৌলবাদীদের মনস্তত্ত্ব: শমীকের অভিযোগ, বিগত সরকারগুলির আমলে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-নেতারা যেভাবে তোষণমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, তাতে মৌলবাদীরা ধরে নিয়েছিল এটি তাদেরই নিজস্ব সরকার।

পাশাপাশি, যেখানে ধর্মান্ধ মৌলবাদ মাথাচাড়া দেয়, সেখানেই যে অনিবার্যভাবে সন্ত্রাসবাদের জন্ম হয়, সেকথাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। তাঁর জোরালো দাবি, এই কারণেই আজ বাংলা থেকে একের পর এক বড়সড় জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ধরা পড়ছে। পশ্চিমবঙ্গকে কার্যত ‘বারুদের স্তূপে’ পরিণত করা হয়েছে বলে তোপ দেগেছেন তিনি। সুশাসনের পাশাপাশি অপরাধমুক্ত বাংলা গড়াই তাঁদের দলের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন শমীক।

ঠিক কী ঘটেছিল বর্ধমানে?
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ উপনগরী থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। বর্ধমান থানার পুলিশের সহযোগিতায় আকস্মিক এই অভিযান চালানো হয়।

প্রাথমিক তদন্তে ধৃতের সঙ্গে জইশ নেটওয়ার্কের সুনির্দিষ্ট যোগসূত্র পাওয়ার কথা জানায় তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, পুলিশি জেরা ও তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, ধৃত জঙ্গির মূল টার্গেটের তালিকায় নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারী-রও! আর এই সংবেদনশীল ও গুরুতর তদন্তের আবহেই রাজনৈতিক তরজায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজ্য-রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *