মহিলার ব্যাঙ্কে ৯৯,৯৯,৯৯,৯৯৭ টাকা, LPG ভর্তুকি চেক করতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গেছে। রান্নার গ্যাসের ভর্তুকির টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কি না, তা চেক করতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে এক সাধারণ গৃহবধূর। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে হুবহু ৯৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকা! কুলতলির জামতলা পিএনবি (PNB) ব্রাঞ্চে এই অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটেছে।
কে এই কাশ্মীরা শেখ?
জানা গিয়েছে, ৩৬ বছর বয়সি ওই গৃহবধূর নাম কাশ্মীরা শেখ, তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির বাসিন্দা। তাঁর স্বামী পেশায় একজন সাধারণ দর্জি। পরিবারের সংসারে আর্থিক সাহায্য করতে কাশ্মীরা নিজেও বাড়িতে বসে জরি-এমব্রয়ডারির কাজ করেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি ছোট্ট অ্যাসবেসটস-এর ছাদের ঘরে বসবাস করেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাঙ্কে গিয়ে যখন তিনি জানতে পারেন যে তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০০ কোটি টাকা রয়েছে, তখন তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যায়।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করায় বিপাকে পরিবার
এক সাধারণ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাতারাতি এত বিপুল পরিমাণ টাকা দেখে ঘাবড়ে যান খোদ ব্যাঙ্ক আধিকারিকরাও। পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি ওই মহিলার অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন কাশ্মীরা শেখ। জানা গিয়েছে, দম্পতিটির এই একটি মাত্রই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেটিও ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন লেনদেন করতে গিয়ে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁদের।
কী কারণে ঘটল এই বিপত্তি?
প্রাথমিক তদন্তের পর ব্যাঙ্কের তরফে অনুমান করা হচ্ছে, এটি ব্যাংক সার্ভারের কোনো যান্ত্রিক বা টেকনিক্যাল ত্রুটির (Technical Glitch) কারণেই ঘটেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ টাকার আসল উৎস কোথায়, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। যদিও এই ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, এই ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর ঠিক আগের সপ্তাহে কলকাতার বেলেঘাটায় অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে একটি ক্লাউড কিচেন পরিচালনাকারী নূপুর গুপ্তা দাবি করেছিলেন, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও আচমকা ৪৭ কোটি টাকা জমা হয়ে গিয়েছে। সেই ঘটনার মতো কুলতলির এই মামলারও তদন্ত চালাচ্ছে ব্যাঙ্ক, পুলিশ ও আয়কর বিভাগ।