বীরভূমের পর এবার মালদা! ফ্ল্যাট থেকে পাহাড়প্রমাণ নগদ টাকা ও কাফ সিরাপ উদ্ধারে চাঞ্চল্য!

বীরভূমের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিপুল পরিমাণে নগদ টাকা উদ্ধারে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। পাহাড়প্রমাণ অর্থ উদ্ধার হল মালদার মঙ্গলবাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে। নগদ টাকার পরিমাণ এতই বেশি যে তা গোনার জন্য শেষ পর্যন্ত টাকা গোনার মেশিন নিয়ে আসতে হয় পুলিশকে। গত রবিবার রাতে পুরাতন মালদা পুরসভার চৌরঙ্গি মোড় এলাকার এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নগদ ছাড়াও উদ্ধার সোনা ও কাফ সিরাপ
পুলিশ সূত্রে খবর, শুধুমাত্র বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাই নয়, ওই ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে সোনা এবং প্রচুর পরিমাণে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপও। প্রাথমিক অনুমান, ওই ফ্ল্যাটকে কেন্দ্র করেই একটি বড়সড় কাফ সিরাপ পাচারের চক্র বা স্মাগলিং র্যাকেট চালানো হতো।
কার ফ্ল্যাট, কে থাকত সেখানে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে ফ্ল্যাটটিতে এই হানা চালানো হয়েছে তার মালিক দিলীপ সাহা নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি। তবে তিনি নিজে ওই ফ্ল্যাটে থাকেন না। পিন্টু সরকার নামে এক ব্যক্তি ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে থাকত। রবিবার রাতে যখন পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালায়, তখন পিন্টু ওই বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। তাকে সামনে রেখেই ফ্ল্যাটে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ বাহিনী।
টাকা গোনার মেশিন নিয়ে তল্লাশি, উদ্ধার প্রায় কোটির বেশি
রবিবার রাতে আচমকাই মঙ্গলবাড়ির ওই ফ্ল্যাটে হানা দেয় পুলিশ। ঘরের আলমারি খুলতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশকর্মীদের। আলমারির তাকে সারিবদ্ধভাবে সাজানো ছিল বান্ডিল বান্ডিল নোট। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ গোনার জন্য দ্রুত টাকা গোনার মেশিন আনানো হয়। রাত পর্যন্ত চলা গণনা অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি নগদ গোনা সম্ভব হয়েছে। বাকি থাকা টাকা গণনার কাজ সোমবারও জারি রয়েছে।
কীভাবে মিলল এই ফ্ল্যাটের সন্ধান?
প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত জুলাই মাসে দক্ষিণ দিনাজপুরের মেহেন্দ্রীপাড়া এলাকা থেকে প্রায় ১৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির কাফ সিরাপ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই মামলায় ধৃতদের জেরা করার পরেই এই ফ্ল্যাটের সন্ধান পায় পুলিশ। এর পরই রবিবার রাতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই বড়সড় অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করছে পুলিশ।
এদিকে, ফ্ল্যাটের মালিক তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা দিলীপ সাহার দাবি, ওই ফ্ল্যাটে ঠিক কী চলত সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না। তিনি পিন্টু সরকার নামের এক ব্যক্তিকে ওষুধ ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েই ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিয়েছিলেন। ভাড়ার পর সেখানে কী কর্মকাণ্ড চলত, তা তাঁর অজানা ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।