“বিজেপির আইটি সেল গালি দিলে ছাড়, আর প্রতিবাদ করলে FIR?” দেশে দ্বিমুখী নীতি নিয়ে তোপ সিজেপি নেতার

দিল্লির যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে এক ১৫ বছরের কিশোরীর বিরুদ্ধে পুলিশি এফআইআর দায়ের হওয়া নিয়ে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। গালিগালাজের ভাষা নিন্দনীয় হলেও, এর জন্য রাষ্ট্রের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা ও পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)।
সৌরভ দাসের প্রশ্ন ও সিজেপি-র অবস্থান
সিজেপি-র মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস এই কঠোর আইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, “এই দেশে গালিগালাজ করা বা অশালীন শব্দ ব্যবহার করা কবে থেকে ফৌজদারি অপরাধ হয়ে গেল? লোকসভার প্রায় ৫০ শতাংশ সাংসদের নামেই তো খুন, ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি মামলা ঝুলছে, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, কটূ ভাষা বা রুচিহীন বক্তব্য কখনওই অপরাধ হতে পারে না, যতক্ষণ না তা সরাসরি হিংসা উস্কে দেয়। বক্তব্যের জবাব আরও জোরালো বক্তব্য দিয়েই দেওয়া উচিত, পুলিশ দিয়ে দমনপীড়ন চালিয়ে নয়। অবিলম্বে ওই কিশোরীকে হেনস্থা করা বন্ধ করে তাকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিজিৎ দীপকের মুখে ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ
সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এই ঘটনায় দেশে ‘দ্বিমুখী নীতি’ (Double Standards) চলছে বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, শাসকদল বা তাদের আইটি সেলের সদস্যরা যখন দিনের পর দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় মহিলাদের কুরুচিকর ও নোংরা ভাষায় আক্রমণ করেন, তখন পুলিশ কেন কোনো পদক্ষেপ নেয় না?
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “গালি দেওয়ার জন্য যদি এফআইআর করতেই হয়, তবে বিজেপির সেই সব আইটি সেলের সদস্যদের বিরুদ্ধে কবে মামলা হবে, যারা সগর্বে সোশ্যাল মিডিয়া বায়োতে লেখে ‘ফলোড বাই পিএম মোদী’? তারা মেয়েদের গালি দিলে ছাড়, আর প্রতিবাদের উত্তাপে কিছু ভাষা বেরোলে সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর?”
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
মামলা দায়ের: গত ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে নিট আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে গাজিয়াবাদের বাসিন্দা স্মৃতি সিংয়ের অভিযোগে নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) দায়ের করা হয়। বিएनएस (BNS)-এর ৩৫২, ৩৫৩(১) এবং ৩৫৬(১) ধারায় মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর তা তদন্তের জন্য দিল্লি পুলিশের কাছে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমার বার্তা: দেশজুড়ে এই বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিও বার্তায় জানান যে, আন্দোলনের নামে তাঁকে ও তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে যাঁরা কুরুচিকর গালিগালাজ করেছেন, সেই শিক্ষার্থীদের তিনি মন থেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তরুণ সমাজকে ‘পথভ্রষ্ট সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে আইনি জালে না জড়িয়ে তাদের শুধরে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমার ঘোষণার পরেও নাবালিকার বিরুদ্ধে পুলিশি আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় সিজেপি-র মতো সংগঠনগুলি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই চলেছে।