স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে বুকিংয়ের দিন শেষ! ট্রেনের অতিরিক্ত লাগেজ এখন অনলাইনেই বুক করতে পারবেন যাত্রীরা

ভারতীয় রেল ব্যবস্থা ক্রমশ আরও বেশি আধুনিক ও যাত্রীমুখী হয়ে উঠছে। যাত্রী পরিষেবায় আরও এক ধাপ উন্নতি ঘটিয়ে এবার অনলাইনে অতিরিক্ত লাগেজ (Excess Baggage) বুক করার যুগান্তকারী সুবিধা চালু করল রেল। বিগত ৩১ জুলাই, ২০২৬ থেকেই এই অত্যাধুনিক সিস্টেম কার্যকর করা হয়েছে।

এতদিন পর্যন্ত যাত্রীদের নির্ধারিত সীমার তুলনায় অতিরিক্ত লাগেজ নেওয়ার জন্য স্টেশনের পার্সেল বিভাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আলাদাভাবে বুকিং করতে হতো। তবে রেল বোর্ডের নির্দেশে ‘সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেমস’ (CRIS)-এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় এই ঝঞ্ঝাট থেকে যাত্রীদের মুক্তি মিলতে চলেছে। এখন থেকে আইআরসিটিসি (IRCTC)-র অনলাইন টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্মেই রিজ়ার্ভড টিকিট কাটার সময় অতিরিক্ত লাগেজ বহনের তথ্য দেওয়া যাবে।

কারা পাবেন এই সুবিধা এবং কীভাবে কাজ করবে সিস্টেম?
এই অনলাইন সুবিধার সুফল একমাত্র কনফার্মড রিজ়ার্ভড টিকিট (Confirmed Reserved Ticket) থাকা যাত্রীরাই পাবেন।

টিকিট বুকিংয়ের সময় যাত্রীরা অতিরিক্ত লাগেজের বিস্তারিত তথ্য দিলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automated) সংশ্লিষ্ট শ্রেণির বিনামূল্যে বহনযোগ্য লাগেজের লিমিট, সর্বোচ্চ অনুমোদিত ওজন, নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকা, অতিরিক্ত চার্জ এবং নিয়মভঙ্গের জরিমানার তথ্য জানিয়ে দেবে। ফলে যাত্রীরা আগে থেকেই সমস্ত হিসেব পেয়ে যাবেন।

কোন শ্রেণিতে কত ওজনের লাগেজ বহন করা যায়?
রেলের নিয়মানুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে লাগেজের নির্দিষ্ট মাপ ও ওজনসীমা নির্ধারিত রয়েছে:

এসি ফার্স্ট ক্লাস (1AC): ৭০ কেজি পর্যন্ত লাগেজ বিনামূল্যে এবং অতিরিক্ত মাশুল দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫০ কেজি পর্যন্ত নেওয়া যাবে।

এসি টু-টায়ার (2AC): ৫০ কেজি ফ্রি এবং সর্বোচ্চ ১০০ কেজি পর্যন্ত।

এসি থ্রি-টায়ার, থ্রি ইকোনমি ও এসি চেয়ার কার: সর্বাধিক ৪০ কেজি পর্যন্ত লাগেজ অনুমোদিত (এই শ্রেণিগুলিতে অতিরিক্ত লাগেজ বুক করার সুযোগ থাকে না, কারণ ফ্রি লিমিটই সর্বোচ্চ সীমার সমান)। এখানে সর্বোচ্চ ৫৫ সেমি × ৪৫ সেমি × ২২.৫ সেমি মাপের ব্যাগ নেওয়া যায়।

স্লিপার: ৪০ কেজি বিনামূল্যে এবং সর্বোচ্চ ৮০ কেজি পর্যন্ত।

দ্বিতীয় শ্রেণি (General/2S): ৩৫ কেজি ফ্রি ও সর্বোচ্চ ৭০ কেজি পর্যন্ত অনুমোদিত।

(উল্লেখ্য, এসি ফার্স্ট, টু-টায়ার, স্লিপার এবং সাধারণ শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ১০০ সেমি × ৬০ সেমি × ২৫ সেমি মাপের লাগেজ বহনের অনুমতি থাকে। অতিরিক্ত লাগেজের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাড়ার দেড় গুণ মাশুল দিতে হয়, যার ন্যূনতম মাশুল ৩০ টাকা এবং হিসাব হবে ১০ কেজির ধাপে, ন্যূনতম দূরত্ব ৫০ কিমি ধরে।)

অনলাইন লাগেজ বুকিংয়ের সহজ পদ্ধতি
অনলাইন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে যাত্রীকে ভারতীয় রেলের নির্দিষ্ট পার্সেল পোর্টালে লগ-ইন করতে হবে।

এরপর যাত্রারম্ভের স্টেশন, গন্তব্য স্টেশন, ট্রেনের বিবরণ এবং ই-ফরওয়ার্ডিং নোট (E-Forwarding Note) পূরণ করতে হবে।

নির্ধারিত দিনে লাগেজ ও ই-ফরওয়ার্ডিং নোটের প্রিন্টআউট নিয়ে স্টেশনে জমা দিতে হবে।

ওজন যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত ভাড়া মেটানোর পর রেলওয়ে রসিদ (RR) দেওয়া হবে।

‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ (Track & Trace) ব্যবস্থার মাধ্যমে লাগেজের বর্তমান অবস্থান ট্র্যাক করা যাবে। গন্তব্যে লাগেজ পৌঁছানোর পর এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে যাত্রীকে জানিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রধান রেলওয়ে রসিদ দেখিয়ে তা সংগ্রহ করা যাবে।

রেল কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে অতিরিক্ত লাগেজ নিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সময় এবং হয়রানি—উভয়ই অনেকটাই কমবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *