‘হামাস মুক্ত গাজা’ গড়ার পথে বিরাট সাফল্য! ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ঘোষণায় বদলাতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ

হামাস-মুক্ত গাজা গড়ার লক্ষ্যে আরও এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে গাজায় নতুন প্যালেস্টাইন প্রশাসন গঠন করা সম্ভব হবে এবং এর পাশাপাশি ধাপে ধাপে ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ একটি বিশেষ পোস্টে এই চুক্তি নিয়ে মুখ খোলেন ট্রাম্প। যুদ্ধ-পরবর্তী গাজাকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace)-এর মাধ্যমেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। একে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার পথে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কী রয়েছে এই চুক্তিতে?
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই চুক্তিটি ধাপে ধাপে (Phased manner) কার্যকর করা হবে:
-
নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া: হামাসের নিরস্ত্রীকরণ সম্পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইজরায়েলি সেনা ধীরে ধীরে গাজা থেকে সরে যাবে।
-
নিরাপত্তা ও প্রশাসন: আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (International Stabilization Force) এবং একটি নতুন প্যালেস্টাইন পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসনের দায়িত্ব নেবে।
-
ভবিষ্যতের রূপরেখা: ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে গাজা এমন এক নতুন প্যালেস্টাইন সরকারের হাতে যাবে, যারা প্রকৃত অর্থে সেখানকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করবে এবং ইজরায়েলও তার কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা পাবে।
এই শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে মিশর, কাতার এবং তুরস্কের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি নিজের প্রশাসনের আলোচক দলকেও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
চুক্তি নিয়ে সংশয় ও ইজরায়েল-হামাসের প্রতিক্রিয়া
এই ঐতিহাসিক ঘোষণা সত্ত্বেও চুক্তিটি বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনও কিছুমাত্রায় সংশয় ও জল্পনা বজায় রয়েছে।
-
এর আগে ইজরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, হামাসকে পুরোপুরি অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং গাজাকে সম্পূর্ণভাবে অস্ত্রশূন্য ও ডেমিলিটারাইজড করতে হবে—যা তাদের প্রধান শর্ত।
-
অন্যদিকে, হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং মিশরের ঘনিষ্ঠ এক কূটনীতিকের মতে, এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ইজরায়েলের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার উপর। ইজরায়েল এই প্রস্তাবকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং বৃহত্তর সমঝোতা কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর নজর রাখছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
এদিকে, এই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই গাজায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। প্যালেস্টাইনের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ইজরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ছয় জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকার চরম বাস্তবতাকে এখনও জিইয়ে রেখেছে।