দিল্লির রাজপথে ছাত্রদের রক্ত ঝরছে! সুপ্রিম কোর্ট তদন্তের দাবি তুলে মোদী সরকারকে কাঁপিয়ে দিলেন রাহুল

লোকসভায় বক্তব্য রাখতে বাধা পাওয়ার পরই সরাসরি কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর চলা বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করেন। একইসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সত্য কথা বলার জন্য তিনি বিজেপি, আরএসএস বা তাদের সহযোগীদের কাছে কখনই ক্ষমা চাইবেন না।

মূল হাইলাইটস

  • নৃশংস হামলা: ছাত্রদের পেলেট গান, শক ব্যাটন এবং পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি নারীদের ওপরও বলপ্রয়োগের অভিযোগ।

  • সুপ্রিম কোর্টের তদন্তের দাবি: আহত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে সর্বোচ্চ আদালতের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি।

  • ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই: বিজেপি বা আরএসএস-এর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন রাহুল।

“সংসদে মুখ বন্ধ করা হয়েছে, তাই মিডিয়ার সামনে সত্য আনছি”

সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। উল্টে তাঁকে শর্ত দেওয়া হয় যে, ক্ষমা চাইলে তবেই কথা বলার সুযোগ মিলবে।

এই প্রসঙ্গে হুঙ্কার দিয়ে রাহুল বলেন,

“আপনারা আজ দেখলেন, লোকসভায় আমাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। আমাকে বলা হয়েছিল ক্ষমা চাইলে সুযোগ দেওয়া হবে। প্রথমত, আমি বিজেপি, আরএসএস বা তাদের সঙ্গে যুক্ত কারও কাছে কখনও ক্ষমা চাইব না। দ্বিতীয়ত, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা আমার সাংবিধানিক অধিকার।”

দিল্লির রাজপথে বর্বরোচিত নির্যাতন: পেলেট গান ও ফেসিয়াল রিকগনিশন

শিক্ষার্থীদের ওপর চলা পুলিশি ও প্রশাসনিক দমনপীড়নের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে রাহুল গান্ধী জানান, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দমাতে নজিরবিহীন হিংসার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

  • পেলেট গানের ব্যবহার: আন্দোলনকারীদের ওপর পেলেট গান চালানো হয়েছে। এক যুবকের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে, যার চোখে পেলেট ঢুকে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপক্রম হয়েছে।

  • মারাত্মক অস্ত্র ও প্রযুক্তি: শুধু সাধারণ লাঠি নয়, ব্যবহার করা হয়েছে শক ব্যাটন এবং পেরেক লাগানো লাঠি। এমনকি পড়ুয়াদের দমাতে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি এবং ভীতি প্রদর্শনের জন্য বিশেষ সংস্থাকে কাজে লাগানোর অভিযোগ উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে স্বাধীন তদন্তের দাবি

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার যতই কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করুক না কেন, এই অন্যায়ের বিচার আদায় করেই ছাড়বে বিরোধী শিবির।

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন,

“আমরা নিশ্চিত করব যে মার খাওয়া ছাত্রছাত্রীরা যেন ন্যায়বিচার পায়। যারা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের ওপর পেলেট গান দিয়ে গুলি চালিয়েছে, তাদের কঠোর শাস্তি পেতেই হবে।”

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে রাহুল গান্ধী দাবি তুলেছেন যে, এই গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি স্বাধীন উচ্চ-পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *