মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের ‘আকস্মিক হামলা’, ফের যুদ্ধের উত্তেজনা চরমে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ আকার ধারণ করল। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী (IRGC)। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই আকস্মিক ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। এর পরপরই ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর যৌথভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও সৌদি আরব।

মাঝআকাশেই রকেট ধ্বংস করল আমেরিকা, সেন্টকমের কড়া বার্তা

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিটিই ছিল ইরানের মূল লক্ষ্যবস্তু। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ শুরু করে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)।

তবে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই মাঝআকাশে সফলভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এতে তাদের বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ সতর্ক ও যুদ্ধপ্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’ দখলের লড়াই ও তেলের বাণিজ্য

বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় অতি সংকীর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে। সম্প্রতি জুন মাসে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ভঙ্গ করে ইরান এই প্রণালীতে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালালে এই উত্তেজনার সূচনা হয়।

তেহরান দাবি তুলেছে যে, এই প্রণালী অতিক্রমকারী প্রতিটি জাহাজকে তাদের উপকূল ঘেঁষে নির্দিষ্ট রুট দিয়ে যেতে হবে এবং এর বিনিময়ে ইরান শুল্ক বা ফি আদায় করার অধিকার রাখে। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় যখন ওমানের উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে জাহাজ নিরাপদে অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই হামলা বাড়ায় ইরান।

পাল্টা জবাবে ইরাকে মার্কিন-সৌদি বিমান হামলা!

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরের দিকে পাল্টা অ্যাকশনে নামে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি বিমানবাহিনী। ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের ওপর দফায় দফায় যৌথ বিমান হামলা চালানো হয়।

সম্প্রতি সৌদি আরবের কয়েকটি তেল শোধনাগারে যে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, তার পেছনে এই ইরাকি মিলিশিয়াদের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে দাবি করেই এই যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও রিয়াদ।

যদিও মঙ্গলবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি নিশ্চিত করেন যে, ইরাকের মাটি ব্যবহার করে কোনো মিত্র দেশের ওপর হামলা চালাতে দেওয়া হবে না এবং এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্য দিকে, ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ তাদের ওপর ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, সৌদি তেলের স্থাপনায় মূল হামলা চালিয়েছিল ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *