নিট প্রশ্নফাঁসে চরম মোড়! ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ আদালতের, এনটিএ-র বিরুদ্ধে কী তথ্য সিবিআইয়ের?

মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত! প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণার ঠিক পরেই দিল্লির বিশেষ রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে সিবিআই (CBI)-এর পেশ করা চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট বা চার্জশিট নথিভুক্ত করলেন বিশেষ বিচারক অনু গ্রোভার বালিগা।

গ্রেপ্তার হওয়া ১৩ জন মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় এই চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩ অগস্ট

কীভাবে ফাঁস হয়েছিল নিটের প্রশ্নপত্র? তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর সত্য

চার্জশিটে সিবিআই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) কোনো শীর্ষ সরকারি আধিকারিক সরাসরি এতে যুক্ত নন। মূল ষড়যন্ত্রের উৎস ৩ জন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষক:

  • মূল ষড়যন্ত্রকারী ৩ শিক্ষক: এনটিএ-র তরফ থেকে চুক্তির ভিত্তিতে রসায়ন (Chemistry), জীববিজ্ঞান (Biology) এবং পদার্থবিজ্ঞান (Physics)-এর প্রশ্ন তৈরির দায়িত্বে থাকা ৩ জন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকই টাকার লোভে প্রশ্নের গোপন তথ্য ফাঁস করেন।

  • মিডলম্যান ও কোচিং সেন্টার: এই শিক্ষকরাই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চক্রের দালাল ও দুটি বিখ্যাত কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ২ ব্যক্তির হাতে আগাম প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন।

  • ১৩ জন জেল হেফাজতে: বর্তমানে চার্জশিটভুক্ত ১৩ জন অভিযুক্তই জেল হেফাজতে রয়েছে।

পাহাড়প্রমাণ নথি ও কঠোর ধারায় মামলা

অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি সুনিশ্চিত করতে সিবিআই পাহাড়প্রমাণ সাক্ষ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ পেশ করেছে:

প্রমাণ ও নথির বিবরণ পরিমাণ / তথ্য
মোট সাক্ষী ৩৬০ জন
গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথি ৪২২টি
ফরেনসিক মেটেরিয়াল অবজেক্ট ৪৩টি
চার্জশিটের মোট নথিপত্র প্রায় ২০,০০০ পাতা

সিবিআই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং নতুন চালু হওয়া পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যাক্ট, ২০২৪-এর মতো কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও আগামী দিনের পদক্ষেপ

নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের মুখে ইতোমধ্যেই তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধুমাত্র ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত বা পদত্যাগই যথেষ্ট নয়; সমস্ত পরীক্ষার্থীর ওপর থেকে এফআইআর তুলে নেওয়া এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

দেশের লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নজর এখন ৩ অগস্টের বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের শুনানির দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *