রাত ১০টায় কিসের ‘সার্ভে’? মগরাহাটে তৃণমূল নেতা ও পঞ্চায়েত অফিসারকে ঘিরে ধুন্ধুমার!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের নাজরা গ্রামে রাত ১০টায় প্রধানমন্ত্রী/বাংলা আবাস যোজনার সার্ভে করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা তৈরি হলো। মগরাহাটের নাজরা গ্রামের ১২৪ নম্বর বুথ এলাকায় রাতের অন্ধকারে এক পঞ্চায়েত আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে গ্রামে সমীক্ষা চালাতে আসেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা রেজাউল শেখ। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
রাতের বেলা হঠাত এ ধরনের সার্ভে নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধতেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে ওই দলটিকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর পরই শুরু হয় তীব্র বচসা, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির রূপ নেয়।
কেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা? রাতের সার্ভে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরকারি কাজের নাম করে এলাকায় ফের নতুন করে অবৈধ অর্থ ও কাটমানি তোলার চক্রান্ত করা হচ্ছিল:
আগের কাটমানি বিতর্কের রেশ: অতীতেও আবাস যোজনা ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এক প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তুলেছিলেন বলে অভিযোগ।
সময়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন: সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী কোনো ধরনের সার্ভে বা ডেটা সংগ্রহের কাজ দিনের আলোয় সাধারণ কাজের সময় হওয়ার কথা। কিন্তু কোন উদ্দেশ্যে সরকারি আধিকারিককে সাথে নিয়ে রাত ১০টার সময় তৃণমূল নেতা সার্ভে করতে এলেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিক্ষোভকারীরা।
কড়া শাস্তির দাবি ও উস্তি থানায় লিখিত অভিযোগ
বিক্ষোভের খবর পেয়ে উস্তি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা রেজাউল শেখ এবং পঞ্চায়েত আধিকারিক সাবির মোল্লা এলাকা ছাড়েন। পরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা উস্তি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী প্রবীণ ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:
ইসানুর গাজী (গ্রামবাসী): “বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায় আমাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া হয়েছিল। নতুন প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
মমতাজ বিবি শেখ (গ্রামবাসী): “আবাসের ঘরের আশায় টাকা দিয়েছিলাম, কিন্তু আজ পর্যন্ত মাথার ওপর একটা পলিথিন ছাড়া কিছুই মেলেনি।”
বিধায়কের আশ্বাস ও প্রশাসনিক অবস্থান
ঘটনা প্রসঙ্গে মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদ জানান, বিষয়টিতে নজর রাখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্য়তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক নিরপেক্ষ তদন্তের পরই আইন মেনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।