শীতলকুচি গুলিকাণ্ড: বিধানসভায় বিস্ফোরক দেবাশিস ধর! কার নির্দেশে চলেছিল গুলি? ফাঁস হতে চলেছে গোপন সত্য?

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিচালনার ঘটনা নিয়ে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এতদিন যা নিয়ে চর্চা কিছুটা থিতিয়ে পড়েছিল, বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধরের চাঁচাছোলা প্রশ্নে তা আবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। কার নির্দেশে সেদিন রক্ত ঝরেছিল শীতলকুচিতে? কেন ৩টি এফআইআর থাকা সত্ত্বেও মূল উস্কানিদাতারা আজও অধরা? এসব প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকারকে একহাত নিলেন সাবেক আইপিএস তথা বিজেপি বিধায়ক।

📌 মূল বিতর্ক ও দেবাশিস ধরের বিষ্ফোরক দাবি:
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শীতলকুচি কাণ্ড নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন দেবাশিস ধর:

সিআইডি (CID) তদন্তের নিরপেক্ষতা: ২০২১-এর এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৩টি পৃথক FIR হওয়া সত্ত্বেও তদন্ত কেন সঠিক গতি পেল না? অবিলম্বে সিআইডি-র মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়ার দাবি জানান তিনি।

‘অদৃশ্য’ আদেশের খোঁজে: সেদিন ঠিক কার উস্কানিতে অশান্তি ছড়িয়েছিল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গুলি চালাতে বাধ্য হতে হয়েছিল, সেই “আসল চালক” কে?

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি গাফিলতি? তদন্তপ্রক্রিয়া আটকে থাকা নিয়ে শাসকদলের সদিচ্ছা ও ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেন এই বিজেপি বিধায়ক।

🔍 প্রেক্ষাপট: এক নজরে শীতলকুচি কাণ্ড
স্মরণ করিয়ে দেওয়া যাক: ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফায় শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ জন স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় কোচবিহারের পুলিশ সুপার (SP) ছিলেন দেবাশিস ধর। ওই ঘটনার পর তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন ও পরবর্তীকালে রাজ্য সরকার। পরবর্তীতে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন এবং বিধায়ক নির্বাচিত হন।

⚡ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
দেবাশিস ধরের এই আক্রমণের পর বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

শাসক শিবিরের প্রতিক্রিয়া: শাসকদলের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হচ্ছে, ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করছে বিজেপি।

বিরোধীদের অবস্থান: বিজেপি শিবিরের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য এবং নেপথ্যের চক্রান্তকারীদের মুখ প্রকাশ্যে আসবে।

রাজ্য রাজনীতির এই হাই-ভোল্টেজ ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার সিআইডি তদন্ত নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *