নিট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার! সিজেপির হুঁশিয়ারির পরেই নমোৎসবে কেন্দ্র, স্বস্তিতে পড়ুয়ারা

প্রতিশ্রুতি মতো নিট (NEET) বিক্ষোভ ও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নির্দিষ্ট মঙ্গলবারের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে ফের বৃহত্তর আন্দোলনের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। সেই আল্টিমেটাম আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং একে একে বিভিন্ন রাজ্য সরকার মামলাগুলি তুলে নিতে শুরু করে। আগেই এই মর্মে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল বিহার সরকার। এবার সেই একই পথে হেঁটে একে একে অসম এবং রাজস্থান সরকারও সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে আর কোনো আন্দোলনকারী বা ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ করা হবে না বলেও পাকা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সিজেপির হুঁশিয়ারি ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ
এর আগে কেন্দ্রের তরফ থেকে মৌখিক আশ্বাস মিললেও কোনো লিখিত চুক্তি না থাকায় সিজেপি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, মঙ্গলবারের মধ্যে যদি লিখিত গ্যারান্টি বা প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা হয়, তবে তারা আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামবে। দলের পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, কেন্দ্রের আশ্বাসের পরও বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি দমনপীড়ন থামেনি, বরং ছাত্রদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং সাহায্যকারী ভলান্টিয়ারদের ওপর নজরদারি ও হেনস্থা চালানো হচ্ছে। বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বলের বাসভবনে আয়োজিত এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে সরাসরি কেন্দ্রকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
বিহার, অসম ও রাজস্থানের পদক্ষেপ
সিজেপির এই প্রবল চাপের মুখেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। প্রথমে বিহার সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সমস্ত মামলা তুলে নেওয়ার এবং ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির ঘোষণা করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অসম সরকারের পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ধৃতদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ করা হবে না এবং মামলা প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হচ্ছে। পরবর্তীতে রাজস্থান সরকারের তরফ থেকেও একই রকম ইতিবাচক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এর ফলে আপাতত বড়সড় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা।
প্রশাসন সাফ জানিয়েছে যে, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও গণ্ডগোলের সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট কিছু অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া জারি থাকবে। প্রসঙ্গত, বিহারের সিওয়ানে প্রতিবাদকারীদের ওপর একে-৪৭ (AK-47) থেকে গুলি চালানোর অভিযোগে এক কনস্টেবলকে ইতিমধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লির কনট প্লেসে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগে এক র্যাফ (RAF) জওয়ানের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্তও শুরু করেছে সিআরপিএফ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে দিল্লি পুলিশের রিপোর্ট
এদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন ও হিংসার ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার। পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় মোট ২৮৭৩ জন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছে। এমনকি গত ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিযান চলাকালীন আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১০১ জনের বিরুদ্ধে অতীতে খুনের মামলা বা গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বলেও দিল্লি পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অত্যাধুনিক ফেসিয়াল রেকগনেশন সিস্টেম ব্যবহার করেই ওই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।