প্রধানমন্ত্রীর সেলফি ভিডিওতে আচমকাই ফেসবুকের নিষেধাজ্ঞা! ভারতে ব্লক হতেই চাঞ্চল্য, নেপথ্যে কী?

নিট (NEET) আন্দোলন চলাকালীন নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের বার্তা সরাসরি পৌঁছে দিতে একেবারে ‘জেন জি’ (Gen Z) স্টাইলে জীবনের প্রথম ‘সেলফি ভিডিও’ (Selfie Video) পোস্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু হঠাত্ই এমন কী ঘটল, যা নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গেল—ফেসবুকের মালিকানা সংস্থা ‘মেটা’ (Meta) স্বয়ং ভারতে সেই ভিডিওটি ব্লক করে দেয়! যদিও এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে ফের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয় এবং ভারতীয় ইউজারদের জন্য ভিডিওটি দেখার সুযোগ আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ঠিক কী ঘটেছিল মঙ্গলবার রাতে?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১টা ২৫ মিনিট নাগাদ হঠাৎই নজরে আসে যে প্রধানমন্ত্রীর ওই জনপ্রিয় সেলফি ভিডিওটি ফেসবুকে আর দেখা যাচ্ছে না। ভিডিওটির ঠিক নীচেই থাকা “See Why” (কারণ দেখুন) অপশনে ক্লিক করলেই মেটার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নোটিস ভেসে উঠছিল। তাতে স্পষ্ট লেখা ছিল—একটি সুনির্দিষ্ট আইনি অনুরোধের প্রেক্ষিতে ভারতের ইউজারদের জন্য এই কন্টেন্টটির অ্যাক্সেস বা দেখার অধিকার সাময়িকভাবে স্থগিত বা সীমিত রাখা হয়েছে।

তবে এই আইনি নির্দেশটির নেপথ্যে দেশের কোনো সরকারি বিভাগ বা মন্ত্রকের হাত ছিল কি না, কিংবা ঠিক কোন আইনি ধারার ভিত্তিতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল—তা মেটার তরফে প্রকাশিত সেই নোটিসে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়া সেই ভিডিও
প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ও আনকোরা অবতারের ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ লক্ষ মানুষ নিমেষের মধ্যে তা দেখেছেন এবং প্রচুর পরিমাণে লাইক ও শেয়ার হতে শুরু করেছিল। এমন একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও চর্চিত ভিডিও হঠাত্ করে ভারতে ব্লক হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহলে চরম রহস্য এবং তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

সাময়িক ব্লকের পর স্বাভাবিক পরিস্থিতি
অবশ্য এই ধোঁয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কিছু ঘণ্টার মধ্যেই কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের সেই অস্থায়ী ব্লক তুলে নেয়। বর্তমানে ভারতে আবার আগের মতো সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নেই দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সেই চর্চিত সেলফি ভিডিওটি।

তবে ঠিক কী কারণে, কার বা কোন সংস্থার নির্দেশের ভিত্তিতে হঠাত্ করে এই আইনি বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছিল এবং ঠিক কীভাবেই বা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা আবার প্রত্যাহার করা হলো—তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত গাঢ় ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। টেক-জায়ান্ট মেটার পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা বিস্তারিত স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে গভীর রাতে প্রথমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলফি ভিডিওর মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নিট পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করার পর সেই ভিডিও কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। এমনকি তার পরদিনই আরও একটি সেলফি ভিডিও পোস্ট করে দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোদী বলেছিলেন, “ধন্যবাদ বন্ধুরা। আপনারা যেভাবে ভিডিওতে সাড়া দিয়েছেন এবং ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের এই ভালোবাসা ভবিষ্যতেও থাকবে, আর আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।” সেই ভিডিও নিয়েই আচমকা এই আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *