“মোদীর পাশেই কাকলি-শতাব্দী!”-NCPI স্বীকৃতি না পেলে কি BJP-র পথেই বিদ্রোহীরা?

জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে অবশেষে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকে যোগ দিল এনসিপিআই (NCPI)। মঙ্গলবার সংসদের লাইব্রেরি বিল্ডিংয়ে অনুষ্ঠিত এনডিএ-র ঐতিহ্যবাহী ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একই সারিতে বসে নজর কাড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আসা বিদ্রোহী নেত্রী তথা এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার।
বৈঠকে হাজির হেভিওয়েট বিদ্রোহীরা
এদিন সকাল সকাল সংসদ চত্বরে এনডিএ-র এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে পৌঁছান কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায় ও সায়নী ঘোষের মতো হেভিওয়েট বিদ্রোহী সাংসদরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেত্রী সুস্মিতা দেব সহ এনসিপিআই শিবিরের অন্যান্য নেতানেত্রীরাও। বৈঠকের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষদস্তিদার অবশ্য তাৎপর্যপূর্ণভাবে জানান, বৈঠক শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তিনি এখনই কিছু বলবেন না।
ঠিক কী প্রেক্ষাপটে এই রাজনৈতিক পালাবদল?
বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ধাক্কার পরই ঘাসফুল শিবিরে শুরু হয়েছিল অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলের একটা বড় অংশের সাংসদ সংসদীয় দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেন এবং কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। তবে লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে এখনও এনসিপিআই-কে আনুষ্ঠানিক সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায়, আইনি স্বীকৃতি নিয়ে জল্পনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শেষ পর্যন্ত যদি এনসিপিআই দল হিসেবে স্বীকৃতি না পায়, তবে এই বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতেও ভিড়ে যেতে পারেন।
সৌগত রায়ের তীব্র আক্রমণ
বিদ্রোহী সাংসদদের এই দলবদল এবং এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দেওয়াকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ওরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখে এবং বিজেপির সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেই নির্বাচনে জিতেছে। আজ তাঁরা এনডিএ-র কোলে গিয়ে বসে ভোটারদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করলেন।” চলতি বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকে কেন্দ্র করে দিল্লির অন্দরে এবং বাংলার রাজনীতিতে উত্তাপ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।