“১২ বছরের অন্ধকার দূর!”-শুভেন্দুর ‘জনতা দরবার’-এর ম্যাজিকে ঝটপট বিদ্যুৎ পেল বাউরি পরিবার

টানা একযুগ ধরে বিদ্যুৎহীন থাকার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখল পুরুলিয়ার পুঞ্চা থানার লাউলাদা গ্রামের কৃষ্ণ বাউরির পরিবার। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দরবার করেও কোনো ফল মেলেনি। কিন্তু বর্তমান সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতা দরবার’-এ অভিযোগ জানানোর মাত্র বারো দিনের মধ্যে অলৌকিকের মতো সমাধান হলো এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার।
ঠিক কী ছিল সমস্যা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণ বাউরির সঙ্গে তাঁর এক প্রতিবেশীর দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিবাদ চলছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করেই স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিদ্যুৎ বিভাগকে বাধা দেয়, যার ফলে কৃষ্ণের বাড়িতে গত প্রায় ১২ বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বহুবার বিদ্যুৎ দফতরের অফিস ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তীব্র কষ্ট ও অন্ধকারেই দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছিল এই পরিবারটি।
জনতা দরবারে অভিযোগ ও মাত্র ১২ দিনের মধ্যে সমাধান
অবশেষে পরিস্থিতির পরিবর্তনে আশা দেখে কৃষ্ণ বাউরির স্ত্রী কল্পনা বাউরি তাঁর মেয়েকে নিয়ে সোজা হাজির হন শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতা দরবার’-এ।
-
অভিযোগ দায়ের: গত ১৩ জুলাই ৩৪ নম্বর ক্রমিক নম্বরে তাঁরা নিজেদের দুর্দশার কথা লিখিতভাবে জানান।
-
প্রশাসনের তৎপরতা: মুখ্যমন্ত্রীর জনতা দরবারের উপস্থিত সরকারি আধিকারিকরা বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। সঙ্গে সঙ্গেই পুঞ্চা থানা, ব্লক প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি যৌথ টিম গঠন করা হয়।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ
গত বৃহস্পতিবার প্রশাসন জমি বিবাদে জড়িত দুই পক্ষকে ডেকে একটি যৌথ শুনানি করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখার পর বাউরি পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এর ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ শুক্রবারই বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা কৃষ্ণ বাউরির বাড়িতে পৌঁছে যান এবং সফলভাবে ইলেকট্রিক কানেকশন সম্পন্ন করেন।
চোখের জলে বিদায় ১২ বছরের অন্ধকার
দীর্ঘ ১২ বছর পর বাড়িতে বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বলে উঠলে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। আবেগপ্রবণ হয়ে কৃষ্ণ বাউরি জানান, “আমরা চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটিয়েছি। আমার দুই সন্তান—এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে নার্স হিসেবে কাজ করলেও আলোর অভাবে ছেলের পড়াশোনার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। মাধ্যমিক দেওয়ার পর বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় সে আর পড়া চালিয়ে যেতে পারেনি।” অবশেষে এই দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে বাউরি পরিবার।