মঞ্চে ব্রাত্য আসল ভুক্তভোগীরা, শুধুই রাজনীতির চর্বিত চর্বণ! নিট আন্দোলন ঘিরে তুঙ্গে অসন্তোষ

নিট (NEET) পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে চলা দেশজোড়া আন্দোলন ঘিরে এবার তৈরি হলো নতুন বিতর্ক। দিল্লির যন্তরমন্তরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রছাত্রীদের কথা বলতে না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল। আন্দোলনকারী খোদ এক নিট শিক্ষার্থীর অভিযোগ, যন্তরমন্তরের মঞ্চে প্রকৃত ভুক্তভোগী ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে নিজেদের মতো করে মঞ্চ ব্যবহার করেছেন নেতারা।

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, গ্রেস মার্কিং এবং অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকার ও এনটিএ-এর বিরুদ্ধে যন্তরমন্তরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলন তুলে নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

এর মাঝেই সামনে এসেছে এক বিস্ফোরক অভিযোগ। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী অভিজিত দিপকে-এর দিকে আঙুল তুলে এক নিট পরীক্ষার্থী সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “আমরা যারা সরাসরি নিটের ভুক্তভোগী, যাদের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে, তাঁদের কাউকেই মঞ্চে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলো না। অথচ রাজনৈতিক নেতারা এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুধু বক্তৃতা দিয়ে গেলেন। এটা কি ছাত্রদের আন্দোলন, নাকি পুরোপুরি রাজনৈতিক মঞ্চ?”

শিক্ষার্থীর এই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় হু-হু করে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ছাত্র সমাজের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের একাংশের স্পষ্ট দাবি, আন্দোলন কোনোভাবেই রাজনৈতিক দলের ছায়ায় বা তাদের স্বার্থে চালিত হওয়া উচিত নয়। ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবেই পড়ুয়াদের হাতে থাকা উচিত।

আয়োজকদের সাফাই কী?

ছাত্রছাত্রীদের একাংশের তরফ থেকে এই ধরনের ক্ষোভ ও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলেও, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অন্য এক সংগঠক সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “মঞ্চে সময় অত্যন্ত সীমিত ছিল। অল্প সময়ের মধ্যে সমস্ত পরীক্ষার্থীকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি।”

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর নিট আন্দোলন সাময়িকভাবে স্তিমিত হলেও, যন্তরমন্তরের মঞ্চে শিক্ষার্থী ও নেতাদের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিতর্কের জেরে পুরো আন্দোলনটির আসল উদ্দেশ্য নিয়েই এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *