মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ৩০ কোটিরও বেশি ভিউ! প্রশ্ন ফাঁসের আবহে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা নিয়ে শোরগোল

চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই প্রধানমন্ত্রী এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকে সাফ জানিয়েছিলেন যে, প্রশ্ন ফাঁস নিছক কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের একক সমস্যা নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ জাতীয় সমস্যা এবং এই ইস্যুতে রাজনীতি না করাই বাঞ্ছনীয়। এরই মধ্যে দেশজুড়ে চলা চরম ছাত্র আন্দোলন এবং NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের আবহে শুক্রবার গভীর রাতে দেশের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই ভিডিওই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক নজিরবিহীন ও অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়ল।
রেকর্ড ভাঙা ভিউ ও লাইকের জোয়ার
সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে প্রকাশিত ওই ভিডিওটি রাত পোহাতেই শুধুমাত্র ইনস্টাগ্রামেই প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দেখেছেন! এরপর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিউয়ের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে ৩৪ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। যা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরাট রেকর্ড। পাশাপাশি, এই ভিডিওতে ১৫ লক্ষ মানুষ তাঁদের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া বা কমেন্ট জানিয়েছেন এবং লাইক করেছেন প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী আরও একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তাঁর আগের রাতের ভিডিওটি এত বিপুল পরিমাণে দেখার জন্য দেশবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
রাজনৈতিক মহলের সমীকরণ ও বিজেপির কৌশল
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রীর শুক্রবার রাতের ওই ভিডিও বার্তাটি ছিল অত্যন্ত সুচতুর ও কুশলী একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ। NEET কেলেঙ্কারির জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লেও, প্রধানমন্ত্রীর নিজের জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা যে তাতে সামান্যও ক্ষুণ্ণ হয়নি, ভিডিওটির এই রেকর্ড ভিউ যেন তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
বিজেপির অন্দরের খবর বলছে, সরকারি প্রচার মাধ্যমের পাশাপাশি গোটা দল এবং গেরুয়া বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাটিকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছিল। ইতিপূর্বে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বিরোধী আন্দোলন কিংবা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও ঠিক এভাবেই সুসংগঠিতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিয়েছিল পদ্ম শিবির। আর এবারের এই ছাত্র আন্দোলনের ঝড় সামাল দিতেও প্রধানমন্ত্রীর এই ডিজিটাল ও মাস কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজি যে দারুণভাবে কাজ করেছে, তা বলাই বাহুল্য।