‘খাওয়াদাওয়া বন্ধ ছিল, শুধু ভয়ে ভয়ে জেগে কাটত রাত!’ অভিজিতের সাফল্যে মায়ের বুকফাটা কান্নার স্মৃতি

দেশজুড়ে নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে অবশেষে শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই চালানো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলনকারীদের কাছে এটি এক ঐতিহাসিক ও রূপকথার মতো জয়। ইনস্টাগ্রামের একটি ব্যাঙ্গাত্মক পেজ থেকে যাত্রা শুরু করে যে তরুণ সংগঠন আজ দিল্লির বুক কাঁপিয়ে দিল, তার মূল চালিকাশক্তি তথা কাণ্ডারী অভিজিৎ দিপকের (Abhijit Dipke) এই বিশাল সাফল্যে এখন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস বইছে। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে যে কতটা যন্ত্রণা, ভয় ও উৎকণ্ঠা পেরিয়ে আসতে হয়েছে পরিবারকে, তা সংবাদমাধ্যমের সামনে শেয়ার করে আবেগে ভেঙে পড়েছেন অভিজিতের মা অনিতা দিপকে।

‘মার খেয়েছিল শুনে আতঙ্কে ঘুমোতে পারিনি’

একটি সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আন্দোলন চলাকালীন নিজের ও পরিবারের চরম মানসিক কষ্টের দিনগুলির কথা স্মরণ করেছেন অনিতা দেবী। তিনি বলেন, “এত কম বয়সে ছেলেটা একা হাতে এত বড় একটা দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে আনল! একজন মা হিসেবে আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।” তবে এই সাফল্যের রাস্তা যে মোটেও ফুলশয্যা ছিল না, তা স্পষ্ট করে তিনি জানান—

“মাঝের এই পাঁচ-সপ্তাহের সময়টা আমাদের পরিবারের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। যখন খবর পেয়েছিলাম পুলিশ ছেলেকে মারধর করেছে, গায়ে হাত তুলেছে, তখন আতঙ্কে আমার সারা শরীর শিউরে উঠেছিল। বুক কাঁপত, না জানি ওর কী ক্ষতি হয়ে যায়! গত ৭ জুন থেকে প্রতিদিন রাত ৩টে-৪টে পর্যন্ত এক ফোঁটা চোখে ঘুম না নিয়ে জেগেই কাটিয়েছি। আমি আর ওর বাবা— দু’জনেই খাওয়া-দাওয়া প্রায় ভুলেই গেছিলাম। ঘরের কোনও কাজেই আর মন বসত না।”

কঠিন লড়াই থেকে ঐতিহাসিক পরিণতি

মায়ের এই আকুলতা ও উদ্বেগের মাঝেই অবশেষে সফল হয়েছে অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র আন্দোলন। দীর্ঘ ৩৬ দিনের টানা সংগ্রাম এবং পুলিশি নিগ্রহ উপেক্ষা করে তাঁরা যেভাবে দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ঘটাতে বাধ্য করেছেন, তাতে আজ শুধু মা অনিতা দেবী নন, গোটা দেশের তরুণ প্রজন্ম এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী থাকল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *