শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা! যন্তর মন্তর থেকে ধর্না তুলল CJP, জয়ে উল্লাসে ফেটে পড়লেন পড়ুয়ারা

দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে অবসান ঘটল সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-সহ একাধিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলা ছাত্র আন্দোলনের। শনিবার (২৫ জুলাই) যন্তর মন্তর থেকে তাঁদের দীর্ঘকালীন ধর্না ও অবস্থান-বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি মেনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর (FIR) প্রত্যাহারের কেন্দ্রীয় আশ্বাসের পরই এই বড় সিদ্ধান্ত নিল সিজেপি নেতৃত্ব।

গত কয়েক দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের শীর্ষ মহল থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, নিজেদের দাবিতে অনড় ছিল ছাত্র সংগঠনটি।

তৃতীয় দফার বৈঠকে বরফ গলল

শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আগেই আন্দোলনকারীদের মূল দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার খবর সামনে আসতেই আলোচনার টেবিলে বরফ গলতে শুরু করে।

বৈঠক শেষে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং অন্যান্য সংগঠকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে যন্তর মন্তরের ধর্না কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই যন্তর মন্তরে উপস্থিত পড়ুয়াদের মধ্যে জয়ের উল্লাস শুরু হয়ে যায়।

মামলা প্রত্যাহারের লিখিত প্রতিশ্রুতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, দিল্লি সহ সমস্ত বিজেপি-শাসিত ও শরিকি রাজ্যগুলিতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত পুলিশি মামলা ও এফআইআর নিঃশর্তে প্রত্যাহার করতে হবে।

সিজেপি নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্র সরকার তাদের এই দাবিও মেনে নিয়েছে। শুধুমাত্র দিল্লিতেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ২০টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সরকারের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে এই সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহারের সরকারি প্রতিলিপি আন্দোলনকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং দ্রুত তা বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত ধর্না ও অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হলেও, মঙ্গলবার সরকার তাদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করছে কিনা, সেদিকেও কঠোর নজরদারি রাখবে CJP।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *