NEET বিতর্কে ইস্তফা দিয়েও বিস্ফোরক ধর্মেন্দ্র প্রধান! প্রধানমন্ত্রীকে কী বলে চিঠি পাঠালেন তিনি?

ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) টানা ও ব্যাপক বিক্ষোভের সামনে অবশেষে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলো কেন্দ্র। NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে প্রবল চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে নিজের পদত্যাগের ঘোষণাপত্র বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ছত্রে ছত্রে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও গভীর ইঙ্গিত রেখে গেছেন, যা বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কী লিখেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান?

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং যুবসমাজকে নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন তিনি।

ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন—

“এটা আমার দৃঢ় সংকল্প, আমি যেন দেশের যুব প্রজন্মের শক্তিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে না দিই। আমি কখনোই চাইব না, ভারত-বিরোধী শক্তি যেন যন্তর-মন্তর বা দেশের এই বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ না নিতে পারে। আমি চাই, আমাদের দেশের ঐক্য যেন সর্বদা অক্ষুণ্ণ থাকে।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মন ভারাক্রান্ত হওয়ার কথা

দেশের তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে ‘প্রিয় যুবসাথী’ সম্বোধন করে তিনি আরও লেখেন যে, গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম তাঁর মনকে গভীরভাবে ভারাক্রান্ত করেছে। দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং তাঁদের সমস্ত ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যে তাঁদের সকলের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের এক পবিত্র নৈতিক অঙ্গীকার, তা তিনি ফের স্মরণ করিয়ে দেন। একইসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

কিরেন রিজিজুর সমর্থন ও প্রতিক্রিয়া

শিক্ষামন্ত্রীর এই পদত্যাগ এবং তাঁর এই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই মোদী মন্ত্রিসভার হেভিওয়েট মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তাঁর সমর্থনে মুখ খুলেছেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাজের প্রশংসা করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আপনি সত্যিকারের নেতার মতো নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিগত বছর ধরে আপনার এই অবিরাম গণসেবা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।” উল্লেখ্য, লাগাতার ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে প্রবীণ কোনো মন্ত্রীর এই ধরনের পদত্যাগ এবং বিদায়বেলায় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও দেশবিরোধী শক্তির অপচেষ্টা নিয়ে এমন মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *